২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘এফ’-এ তীব্র ও ফলপ্রসূ ফুটবল খেলেই দাপুটে শুরু করেছে সুইডেন। মেক্সিকোর মন্টেরেতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে তিউনিশিয়াকে ৫-১ গোলে হারিয়ে সুইডিশরা নিজেদের শক্তিশালী উপস্থিতি জানায়।
ম্যাচ শুরু থেকেই সুইডেন আক্রমণাত্মক ও সুসংগঠিত ফুটবল খেলতে থাকে। খেলাগুলো খোলার সদ্যতম উদাহরণ হিসেবে সপ্তম মিনিটেই ইয়াসিন আয়ারি এক দুর্দান্ত দূরপাল্লার শটে গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। তিউনিশীয় বংশোদ্ভূত এই মিডফিল্ডার গোল উদযাপনে অতিরিক্ত উল্লাস করেননি এবং দলের জন্য নিজের ভূমিকার প্রতি পেশাদার মনোভাব দেখান।
ম্যাচের ৩০তম মিনিটে আলেকজান্দার ইসাক ভিক্টর ইয়োকেরেসের দেয়া বল পেয়ে দারুণ এক শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করে দেন। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে তিউনিশিয়া ফিরত চেষ্টা করে—৪৫তম মিনিটে কর্ণার থেকে উঠে আসা বল ওমর রেকিক শক্তিশালী হেডে জালে পাঠিয়ে স্কোর ২-১ করেন এবং সেই অবস্থাতেই বিরতিতে যায় দুই দল।
দ্বিতীয়ার্ধ শুরুতেই সুইডেন নিয়ন্ত্রণ বার চেয়ার নেয়। ৫৯ মিনিটে তিউনিশিয়ার অধিনায়ক ইলযাস সিকিরির একটি ভুল কৌশলে কার্যকর করে ভিক্টর ইয়োকেরেস গোলে পরিণত করেন এবং ব্যবধান বাড়ে ৩-১। এরপর ৮৪ মিনিটে বদলি হিসেবে নেমে মাটিয়াস সভানবার্গ গোল করার চেষ্টা করলে প্রথমে অফসাইডের কারণে তা বাতিল করা হয়; কিন্তু ভিএআর পর্যালোচনার পর শেষপর্যন্ত তাকে গোল হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়।
ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে ইয়াসিন আয়ারি আবারও নিজের ফুটবলীয় শ্রেষ্ঠতার পরিচয় দেন—ডি-বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া এক শক্তিশালী বাঁকানো শট তিউনিশিয়ার জালে গিয়ে তার ব্যক্তিগত দ্বিতীয় ও দলের পঞ্চম গোল নিশ্চিত করে।
পুরো ম্যাচে আক্রমণে ভিক্টর ইয়োকেরেস ছিলেন প্রাণকেন্দ্র—১ গোল ও ১ অ্যাসিস্টের অনন্য ভূমিকা পালন করেছেন, আর আলেকজান্দার ইসাকও ১ গোল ও ২ অ্যাসিস্টের সাহায্যে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছেন। কৌশলগতভাবে সুইডেন খেলা নিয়ন্ত্রণ করে ধারাবাহিক আক্রমণ তৈরি করেছে এবং প্রতিপক্ষের খোড়াকলির সুযোগ সীমিত রাখে।
এই জয়ের মাধ্যমে সুইডেন প্রথম ম্যাচ শেষে ৩ পয়েন্ট সংগ্রহ করে এবং গোল ব্যবধানে গ্রুপ ‘এফ’-এর শীর্ষে উঠে আসে। তিউনিশিয়া অবশ্য বেশ খোলামেলা ও আক্রমণাত্মক ফুটবল দেখিয়েছে, তবে ম্যাচ বােফল ধরতে না পেরে চতুর্থ ও পঞ্চম গোলে প্রতাপ হারায়। বিশ্বকাপ অভিযান এখনও শুরু, এবং সুইডেন এই জয়ের সঙ্গে আত্মবিশ্বাস উন্নীত করে পরবর্তী মঞ্চে নামবে।












