ঢাকা | মঙ্গলবার | ১৬ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১লা মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

শরিফুলের ক্যারিয়ারসেরা ৬ উইকেটেও এক উইকেটে জিতে গেল অস্ট্রেলিয়া

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ওয়ানডেতে অস্ট্রেলিয়াকে শ্বাসরুদ্ধকর এক ম্যাচে ১ উইকেটে হারিয়ে দিলেন লাল-সবুজের বাইরেই। পেসার শরিফুল ইসলাম ক্যারিয়ারসেরা ৬ উইকেট নিলেও ২২ বছরের কুপার কনোলির ঝড়ো সেঞ্চুরিতে শেষ মুহূর্তে বাংলাদেশ হোয়াইটওয়াশ থেকে বঞ্চিত হলো। আগের ম্যাচগুলোতে সেরিজ জেতা নিশ্চিত করলেও 이날 হারের কারণে বাংলাদেশের হোয়াইটওয়াশ বাস্তবায়ন হয়নি।

টস জিতে প্রথমে ব্যাটিং করার সিদ্ধান্ত নেয়া বাংলাদেশ ইনিংসের শুরুতে সৌম্য সরকার, তানজিদ হাসান তামিম ও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তকে দ্রুত হারিয়ে পড়ে মাত্র ৬১/৩-এ কবরস্থ। চাপের মুখে দলকে সামলাতে চতুর্থ উইকেটে লিটন দাস ও তাওহীদ হৃদয় দুর্দান্ত ৯২ রানের জুটি গড়ে দলকে টেনে তোলেন। ইনিংসের মাঝপথে চোট পাওয়ার পরও ফিরে এসে মিরপুরে নিজের প্রথম ওয়ানডে ফিফটি করলেন লিটন; ৫৮ রানে অপরাজিত ছিলেন তিনি। অন্যদিকে তাওহীদ হৃদয় ৮৩ রানের শক্ত ভরসা জুগিয়ে যান। শেষ ওভারগুলোতে মোসাদ্দেক হোসেন সৈকতের দ্রুতগতির অপরাজিত ৫৬ রানে ভর করে বাংলাদেশ ৫ উইকেটে ২৭৪ রান সংগ্রহ করতে সক্ষম হয়।

২৭৫ রানের লক্ষ্যে তাড়া শুরু করে অস্ট্রেলিয়া, প্রথম থেকেই আক্রমণাত্মক রুট রাখে তারা। শুরুতেই অজি বোলিংয়ে বিঘ্ন ঘটান বাঁহাতি পেসার শরিফুল; নিজের প্রথম ওভারেই জশ ইংলিশ ও ম্যাট রেনশোকে ফিরিয়ে ম্যাচে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেন তিনি। পরে তাসকিন আহমেদ অ্যালেক্স ক্যারিকে ফেরালে অস্ট্রেলিয়া বিপন্ন হওয়ার পথে, তবে কুপার কনোলি ও মার্নাস লাবুশেন ৬৪ রানের জুটি গড়ে ব্যাকবোন তৈরি করেন। কনোলি মাত্র ৫১ বলেই ফিফটি স্পর্শ করে, এরপর আরও আগ্রাসী হয়ে ক্যামেরন গ্রিনের সঙ্গেও জুটিতে খেলেন এবং ৮৭ বলেই নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি তুলে নিয়ে অস্ট্রেলিয়ার জয়কে সহজ করে তোলেন।

ম্যাচের শেষপর্যায়ে শরিফুল অসাধারণ লড়াই চালান — অলিভার পিক (২৭) ও জাভিয়ার বার্টলেটকে পরপর দুই বলে আউট করে প্রথমে ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফার তুলে নেন, এবং পরবর্তী বলে আরও একটি উইকেট পেয়ে ক্যারিয়ারসেরা ছয় উইকেটের কীর্তি গড়েন। কিন্তু দলের অন্য বোলারদের থেকে প্রয়োজনীয় সাপোর্ট না পাওয়ায় শরিফুলের তাৎপর্যপূর্ণ পারফরম্যান্স শেষ পর্যন্ত দলের জয়ে পর্যাপ্ত হতে পারেনি। ম্যাচের শেষ মুহূর্তগুলোতে অস্ট্রেলিয়া ৩ বল ও ১ উইকেট হাতে রেখে জয়ী হয়।

বাংলাদেশের পক্ষে শরিফুল নেওয়া ৬ উইকেট ছাড়াও তাসকিন আহমেদ, মোস্তাফিজুর রহমান ও শেখ মেহেদী হাসান প্রত্যেকে একটি করে উইকেট নেন। হারলেও লড়াই করার মানসিকতা ও শরিফুলের এক ব্যক্তিগত কীর্তি এই ম্যাচকে স্মরণীয় করে রাখল।