ঢাকা | রবিবার | ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৮শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানির একাংশ রূপ বদলেছে, অন্য অংশ পালিয়েছে: গোলাম মাওলা রনি

সাবেক সংসদ সদস্য ও কলামিস্ট গোলাম মাওলা রনি বলেছেন, ড. মুহাম্মদ ইউনূসের ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চলাকালে ক্ষমতার কেন্দ্রে একটি শক্তিশালী ‘বাণিজ্যকেন্দ্র’ গড়ে উঠেছিল। সম্প্রতি ফেসবুকে প্রকাশিত এক ভিডিওবার্তায় তিনি এ বৃত্তকে ‘ড. মুহাম্মদ ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের কর্মকাণ্ড ও অর্থলোপনের নানা অভিযোগ তুলে ধরেছেন।

রনি বলেন, ওই ‘কোম্পানি’ মূলত কয়েকটি প্রভাবশালী অংশে বিভক্ত ছিল। প্রথমত— কিছু শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী গোষ্ঠী যারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিশাল সুবিধা আদায় করেছে। দ্বিতীয়ত— আমলাতন্ত্র, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সামরিক বাহিনীর এমন সদস্যরা, যারা ব্যক্তিগত বা পারিবারিকভাবে ড. ইউনূসের গ্রামীণ ব্যাংক পরিবারের সঙ্গে সম্পর্কযুক্ত ছিলেন। তৃতীয়ত— এনজিও ও ব্যাংকিং খাতের একটি বড়চক্র, যারা নানা ছোটখাটো জরিপ বা রিপোর্টের আড়ালে শত শত কোটি টাকা সংগ্রহ ও অপব্যবহার করেছিল। এগুলো একযোগে দেশের অর্থব্যবস্থায় বিশাল ক্ষতি করেছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান উল্লেখ করে রনি বলেন, আগের সরকারের সময় যেখানে বৈদেশিক ঋণ ছিল প্রায় ১০০ বিলিয়ন ডলার, ইউনূস সরকারের ১৮ মাসে সেটি বেড়ে প্রায় ১২০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অতিরিক্ত প্রায় ২০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় আড়াই লাখ কোটি টাকা) কোথায় খরচ হয়েছে—এটি তিনি বড় প্রশ্ন হিসেবে উত্থাপন করেন। আরও অভিযোগ করে তিনি বলেন, বড় ব্যবসায়ীদের ঋণ মওকুফ করা, রিশিডিউল বা পুনঃসমন্বয়ের নামে সুবিধা দেওয়া এবং বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আর্থিক ঢালাইয়ের মাধ্যমে রাজস্ব ও বাহ্যিক তহবিলে বড় ক্ষতি হয়েছে।

রনি দাবি করেন, এডিপি ও অন্যান্য প্রকল্পের নামে গত দুই বছরে লক্ষাধিক কোটি টাকার অঙ্কে খরচ হলেও বাস্তবে দৃশ্যমান কোনো উন্নয়ন বা পাবলিক ওয়ার্কস নেই। তিনি এটাকেও জরুরি প্রশ্নউৎপাদক বলেন যে, তহবিলের এত বড় অংশ কোথায় গিয়েছে এবং এর যথার্থ হিসাব-নিকাশ কোথায়।

ভিডিওর শেষভাগে রনি এই গোষ্ঠীর নৈতিক অবক্ষয়ের কথাও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ক্ষমতায় থাকাকালীন তারা প্রতিপক্ষকে নিপীড়িত ও অপমান করতে কোনও সীমা রাখেনি, ফলে এখন তাদের নৈতিক শক্তি বা ‘মোরাল কারেজ’ লোপ পেয়েছে। নিজের কথায়, এই প্রেক্ষাপটেই ‘ইউনূস অ্যান্ড কোম্পানি’র একটি বড় অংশ তাদের পরিচয় বদলে বর্তমান সরকারের সঙ্গে সমঝোতা বা একীভূত হয়েছে, কিছু অংশ তাদের চেহারা লুকিয়ে রেখেছে এবং বাকি সদস্যরা বিচার এড়াতে দেশ ছেড়ে পালিয়েছে।

রনির এই সব অভিযোগ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্বারা যাচাই-বাছাই করা উচিত, এবং তিনি আশা করেন জনগণ ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান এসব অভিযোগের মৌলিক তদন্ত করবেন।