ঢাকা | শুক্রবার | ১২ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৬শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

দৃষ্টিশক্তিই জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামত: কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু

দৃষ্টিশক্তি মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় নিয়ামত — কিন্তু সঠিক চিকিৎসা-সেবা না পেলে বহু মানুষ অন্ধত্বের ঝুঁকির মুখে পড়ছেন। আর অর্থের অভাবে অনেকেই সময়মত চক্ষু পরীক্ষা করাতে বা প্রয়োজনীয় চশমা কিনতে পারছেন না। এসব দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়াতে সদ্য আয়োজিত ক্যাম্পই ভিশন স্প্রিংয়ের মূল উদ্দেশ্য বলে জানান খুলনা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু।

তিনি এই আহ্বানও জানান যে, যারা এখনও সুযোগ গ্রহণ করেন নাই, তারা যেন দ্রুত বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষার সুযোগ নেন। প্রশাসক এই বক্তব্য Wednesday, ১০ জুন সকালে সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনালে আয়োজিত পরিবহন শ্রমিকদের জন্য বিনামূল্যে চক্ষু পরীক্ষা ও চশমা বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় দেন। এ কর্মসূচি আয়োজন করে স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ভিশন স্প্রিং, সহযোগিতা করেছে খুলনা জেলা বাস-মালিক ও মিনিবাস মালিক সমিতি এবং খুলনা জেলা মটর শ্রমিক ইউনিয়ন।

প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু আয়োজকদের আন্তরিক ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ পরিবহন শ্রমিকদের জন্য অত্যন্ত উপকারী। তিনি খুলনা সিটি করপোরেশনে কর্মরত চালকদেরও বাঁচাতে ও নিরাপদে কাজ চালিয়ে যেতে চক্ষু পরীক্ষায় সাহায্যের জন্য সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানান।

ভিশন স্প্রিং জানিয়েছে, চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে তারা দেশের ৫০,০০০ পরিবহন শ্রমিকের চক্ষু পরীক্ষা করার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এখন পর্যন্ত প্রায় ১২,০০০ জন পরিবহন শ্রমিকের চক্ষু পরীক্ষা করা হয়েছে এবং তাঁদের মধ্যে প্রায় ৮০% শ্রমিকের চশমার প্রয়োজন ধরা পড়েছে। সংস্থাটি বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশে eye-care কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে বলে জানানো হয়।

অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা বাস ও মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল করিম। অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন সমিতির কার্যকরী সভাপতি মো. সাইফুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইয়াসিন মোল্লা, সমাজসেবক শেখ আসাদুজ্জামান মুরাদ, শেখ হাফিজুর রহমান মনি ও ভিশন স্প্রিংয়ের সহকারী ব্যবস্থাপক তাছমিয়া আকসি। স্বাগত বক্তৃতা করেন ভিশন স্প্রিংয়ের সিনিয়র ব্যবস্থাপক উম্মে সাউদা।

এই ধরনের স্থায়ী ও ব্যাপক তোলে নেয়ার মাধ্যমে বহু শ্রমিককে সুস্পষ্ট দৃষ্টিশক্তি ফিরে দেয়া সম্ভব হবে—এটাই আয়োজকদের প্রত্যাশা।