সরকার সারাদেশে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যে সব ধরনের শপিং মল, মার্কেট ও বিপণিবিতান সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশনা পুনর্বহাল করেছে। ঈদুল আজহার আগে রাত ১০টা পর্যন্ত দোকানপাট খোলা রাখার যে বিশেষ ছাড় ছিল, সেটি এখন আর কার্যকর নয়।
তবে এই বিধিনিষ্কার আওতা থেকে সিনেমা হল ও সিনেপ্লেক্সগুলোকে মুক্ত করা হয়েছে। ফলে শপিং মলের ভেতরে থাকা প্রেক্ষাগৃহগুলোও তাদের পূর্বনির্ধারিত সময় অনুযায়ী নিয়মিত প্রদর্শনী চালিয়ে যেতে পারবে এবং রাতের শোগুলো অনায়াসে অনুষ্ঠিত হবে।
চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতি জানায়, সিনেমাহলগুলোর কার্যক্রম যেন ব্যাহত না হয় সেজন্য তারা আগেভাগেই তথ্য মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছিল। সমিতির সভাপতি আওলাদ হোসেন উজ্জ্বল নিশ্চিত করেছেন যে মন্ত্রণালয় আবেদনটি ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করে সরকারি ফিরতি চিঠির মাধ্যমে সিনেমা হলগুলোকে এই বিধির বাইরে রাখার অনুমোদন দিয়েছে। দর্শকদের এখন আর সিনেমা দেখার ব্যাপারে উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণ নেই।
স্টার সিনেপ্লেক্সসহ দেশের বিভিন্ন মাল্টিপ্লেক্সের কর্তৃপক্ষও সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। তারা বলছে — বাজার বা মল নির্ধারিত সময়ে বন্ধ হয়ে গেলেও সিনেমা হলের প্রবেশপথ ও প্রদর্শনী ব্যবস্থাপনা স্বাভাবিক থাকবে, ফলে দর্শকরা রাতের শোসহ পরবর্তী সেশনগুলো নির্বিঘ্নে উপভোগ করতে পারবেন।
সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করছেন, ঈদের এই মৌসুমে মুক্তি পাওয়া সিনেমাগুলোর প্রতি দর্শকের চাহিদা বেশি বলে এবং লোকসানে পড়তে না দিন—এমন বিবেচনায় এই বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে।
এবারের ঈদে মোট আটটি নতুন সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। মুক্তিপ্রাপ্ত ছবিগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘রকস্টার’, ‘রইদ’, ‘বনলতা সেন’, ‘মালিক’, ‘পিনিক’, ‘অফিসার’, ‘মাসুদ রানা’ ও ‘তছনছ’। সন্ধ্যা ৭টার পর সিনেমা হল খোলা রাখার ফলে এসব ছবির ব্যবসা চালু থাকবে এবং দর্শক সংগ্রহ বাড়ার সম্ভাবনা থাকবে।
সরকারের এই সিদ্ধান্ত মূলত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের লক্ষ্যমাত্রা বজায় রেখে বিনোদন খাতের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখার মধ্যেই নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে দেশের সব মাল্টিপ্লেক্স ও সিঙ্গেল স্ক্রিনে দর্শকেরা স্বাভাবিকভাবেই তাদের পছন্দের সিনেমাগুলো দেখতে পারছেন।














