ঢাকা | বুধবার | ৩রা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৭ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

ভোলায় শেষ শ্রদ্ধা: তোফায়েল আহমেদকে জানাজায় মানুষের ঢল

বাংলার রাজনীতির প্রাণী ও মুক্তিযুদ্ধের সংগঠক তোফায়েল আহমেদের প্রতি ভোলায় শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটায় ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তাঁর দ্বিতীয় জানাজায় হাজারো মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন; চোখে অশ্রু আর হৃদয়ে শ্রদ্ধার ঢেউ দেখা যায়। জানাজার আগেই রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় তাঁকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়।

এর আগে দুপুর দেড়টার দিকে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে তোফায়েলের মরদেহ ভোলার বীরশ্রেষ্ঠ মোস্তফা কামাল বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন হেলিপ্যাডে আনা হলে সেখানে নিহত নেতাকে শেষবারে দেখতে এবং শ্রদ্ধা জানাতে মানুষের ভিড় সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে সমর্থকরা ও সাধারণ মানুষ যে উষ্ণ সьем্পাত দেখিয়েছেন, তা ওই মুহূর্তে স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

পরিবার ও এলাকাবাসীর সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁকে পৈতৃক গ্রাম দক্ষিণ দীঘলদীর কোড়ালিয়ার পারিবারিক কবরস্থানে, বাবা-মায়ের কবরের পাশে সমাহিত করা হবে।

তোফায়েল আহমেদ ১৯৪৩ সালের ২২ অক্টোবর ভোলার এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্মগ্রহণ করে। বরিশাল ব্রজমোহন কলেজ ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নকালে তিনি তুখড় ছাত্রনেতা হিসেবে পরিচিত হন এবং ১৯৬৯ সালের গণ-আन्दोलनেও গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্ব দেন। ঐ বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে লক্ষ লক্ষ মানুষের সামনে তিনি শেখ মুজিবুর রহমানকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করেছিলেন—এটি বাংলা রাজনৈতিক ইতিহাসের একটি স্মরণীয় মুহূর্ত।

মহান মুক্তিযুদ্ধে তিনি একজন সক্রিয় সংগঠক ছিলেন; ১৯৭১ সালে তিনি মুজিব বাহিনীর পশ্চিমাঞ্চলীয় অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। স্বাধীনতার পর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের রাজনৈতিক সচিব হিসেবে নিযুক্ত হন এবং পরবর্তী রাজনীতিতে দীর্ঘকাল সক্রিয় থেকে মোট নয় বার সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়ে জনগণের প্রতিনিধিত্ব করেন।

১৯৯৬ ও ২০১৪ সালে তিনি বাণিজ্য-বণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের মতো গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেছেন। ১৯৭৫ সালের রাজনৈতিক উত্থানপতনের পর দীর্ঘ ৩৩ মাস কারান্তরালে থাকলেও তিনি তাঁর আদর্শ থেকে বিচ্যুত হননি। জীবনের শেষদিকে শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও জনসেবায় তিনি সক্রিয় ছিলেন এবং মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রেখেছিলেন।

ভোলার মানুষের প্রিয় নেতা হিসেবে তাঁকে স্মরণ করা হবে; বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামে তাঁর অবদানও যুগে যুগে স্মরণীয় থাকবে। তোফায়েল আহমেদের প্রয়াণে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে এক বড় শূন্যতা তৈরি হয়েছে, এবং রাজনৈতিক অঙ্গনের অনেকেই গভীর শোক প্রকাশ করছেন।