ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৪ঠা জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৮ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

আইপিএল ফাইনালের পর গুজরাট টাইটান্সের বাসে অগ্নিকাণ্ড, সবাই নিরাপদ

আইপিএল ফাইনালে হারের আঘাত সামাল দিতে না পারার আগেই নতুন এক চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ল গুজরাট টাইটান্স। রোববার রাতে আহমেদাবাদের নরেন্দ্র মোদি স্টেডিয়াম থেকে হোটেলে ফেরার পথে তাদের টিম বাসে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। বাসের ভেতর আচমকা ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ায় ড্রাইভার দ্রুত গাড়িটি রাস্তার পাশে থামিয়ে ক্রিকেটার ও স্টাফদের নিরাপদে নামিয়ে আনেন। গুরুতর কোনো ক্ষতি বা আঘাত না হওয়ায় বড় রকমের বিপদ ঠেকেছে, তবে শুভমান গিল ও মোহাম্মদ সিরাজকে প্রায় এক ঘণ্টা রাস্তায় দাঁড়া শেষে অপেক্ষা করতে হয়েছে, যা তাদের জন্য বেশ অসন্তোষজনক ছিল।

সংবাদসংস্থা পিটিআই জানায়, বাসের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় শর্ট সার্কিট হয়েই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত। মুহূর্তের মধ্যে ধোঁয়ায় ভরে যায় বাসের অভ্যন্তর, ফলে উপস্থিত সবাই সাময়িক আতঙ্কিত হন। তবে চালক, নিরাপত্তাকর্মী ও স্টাফদের দ্রুত তৎপরতায় বড় ধরনের কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। বিকল বাস সরিয়ে নেওয়ার পর ফ্র্যাঞ্চাইজি দ্রুত অন্য একটি বাসের ব্যবস্থা করে এবং সেই বাসেই করে দলটি পরে হোটেলে ফিরে আসে।

এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে ঠিক আইপিএলের ফাইনালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরুর কাছে ৫ উইকেটে হারের পর। আহমেদাবাদে স্বাগতিক হওয়ার পরও টাইটান্সের টানা দ্বিতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বপ্ন ভেঙে যায়। ম্যাচ জয়ের ব্যথা লেগেই ছিল, কিন্তু পথে বাসে আগুন যে সেই মানসিক কষ্টকে আরও বাড়িয়ে দেবে এমনটা কেউ ভেবেছেন না। অপেক্ষার সময়ে শুভমান গিল, মোহাম্মদ সিরাজ ও কাগিসো রাবাদাকে রাস্তায় বিচলিত অবস্থায় দেখা যায়।

এ ঘটনায় ক্রিকেট মহলে দলের ক্লান্ত সূচি ও দীর্ঘ ভ্রমণকেও নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ধর্মশালা ও মুল্লানপুর হয়ে আহমেদাবাদে পৌঁছাতে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে দলকে কড়া সফর সহ্য করতে হয়েছে এবং কেবল ফাইনালের কয়েক ঘণ্টা আগে তারা গন্তব্যে পৌঁছাতে পেরেছিলেন। কিন্তু গুজরাটের ডিরেক্টর অব ক্রিকেট বিক্রম সোলাঙ্কি দ্রুত এটিকে হারের আভাস হিসেবে মানতে রাজি হননি। তিনি আরসিবির জয়ের কৃতিত্ব স্বীকার করে বলেছেন, দলের দুর্বলতা ক্লান্তি হলেও মাঠে তারা যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে এবং ফলাফলকে সহজভাবে ভ্রমণ-অবসাদ দিয়ে ব্যাখ্যা করা ঠিক নয়।

ফ্র্যাঞ্চাইজির পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে যে সকল ক্রিকেটার ও কোচিং স্টাফ বর্তমানে নিরাপদ রয়েছেন এবং কারও বড়সড় আঘাত বা স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই। দলের শারীরিক ও মানসিক ক্লান্তি কাটিয়ে উঠতে পর্যাপ্ত বিশ্রাম ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

আইপিএল আসরটি গুজরাটের জন্য কুৎসিত হার আর অনাকাঙ্ক্ষিত এই ঘটনায় স্মরণীয় হয়ে থাকলে-ও, বড় কোনো আঘাত ছাড়া সবাই সুস্থ থাকায় ভক্ত এবং ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। দলের সামনে এখন বিশ্রাম নিয়ে পুনরুদ্ধারের কাজই প্রধান চ্যালেঞ্জ।