আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে মরক্কো তাদের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের তারকা আশরাফ হাকিমি ও রিয়াল মাদ্রিদের ব্রাহিম দিয়াজকে নেতৃত্বে রেখে মঙ্গলবার মরক্কো ফুটবল ফেডারেশন আনুষ্ঠানিকভাবে দলটি প্রকাশ করেছে। মাত্র তিন মাস আগে প্রধান কোচের দায়িত্ব নেয়া মোহাম্মদ ওয়াহবি তার দলের উপর পূর্ণ আস্থা রেখে একটি ভারসাম্যপূর্ণ স্কোয়াড প্রস্তুত করেছেন। আক্রমণ ও রক্ষণ—উভয়েই অভিজ্ঞতার সঙ্গে তরুণ প্রতিভা মিশিয়ে মরক্কো এবার শক্তিশালী ছকেই বিশ্বমঞ্চে নামছে বলে মনে করা হচ্ছে।
কোচ ওয়াহবি মূলত আফ্রিকান কাপ অব নেশনসে পরীক্ষিত খেলোয়াড়দের ওপর ভরসা রেখেছেন। তবুও স্কোয়াডে কয়েকজন নতুন ও চমকপ্রদ নামও জায়গা পেয়েছে। তাদের মধ্যে স্ট্রাকচার বদলাতে সক্ষম ফু্লহ্যামের ডিফেন্ডার ইসা দিয়প ও স্ট্রাসবুর্গের মিডফিল্ডার সামির এল মোরাবেতের নাম চোখে পড়ে। এছাড়া লিলের তরুণ প্রতিভা আয়ুব বুয়াদ্দিও এই মাসের শুরুতে ফ্রান্সের পরিবর্তে মরক্কোর হয়ে খেলার সিদ্ধান্ত নেয়ার পর স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন, যা দলের মিডফিল্ডে নতুন গতি যোগ করবে বলে বিশেষজ্ঞরা দেখছেন।
গ্রুপপর্বে মরক্কোকে কঠিন সূচনা অপেক্ষা করছে—গ্রুপ সি-তেই তারা প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হবে ব্রাজিলের মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীর। গ্রুপে তাদের অপর দুই প্রতিপক্ষ হলো স্কটল্যান্ড ও হাইতি। বিশ্বমঞ্চে ডিফেন্সকে বড় পরীক্ষায় ফেলবে ব্রাজিলের আক্রমণাত্মক খেলা; তাই হাকিমি ও নুসাইর মাজরাউইদের মতো ডিফেন্ডারদের ওপর নিরাপত্তা বজায় রাখার দায়িত্ব সবচেয়ে বেশি থাকবে।
গোলরক্ষক পজিশনে ইয়াসিন বুনুরের পাশাপাশি রয়েছেন মুনির এল কাজৌ ও আহমেদ রেদা তাগনাউতি। রক্ষণভাগে নুসাইর মাজরাউই, শাদি রিয়াদ ও আনাস সালাহ-এদ্দিনের উপস্থিতি দলের প্রতিরক্ষাকে শক্ত পাঠিয়েছে। মিডফিল্ডে দায়িত্ব সুমনে রাখবেন সুফিয়ান আমরাবাত, আজেদিন উনাহি ও বিলাল এল খান্নুস—তিনজনই ম্যাচ কন্ট্রোল এবং বল পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন। আক্রমণভাগে ব্রাহিম দিয়াজের সঙ্গে দায়িত্ব ভাগ করবেন সুফিয়ান রহিমি, আইয়ুব এল কাবি ও আবদেসামাদ এজ্জালজুলি, যারা দ্রুত গতিতে এবং শেষ মুহূর্তের রূপান্তরে দলের ভরসা হবে।
মোট কথা, ঘোষিত এই স্কোয়াডটি অভিজ্ঞতার সাথে তরুণ প্রতিভার একটি সুনিয়ন্ত্রিত মিশেল। আন্তর্জাতিক স্তরে খ্যাতিমান খেলোয়াড়দের নেতৃত্বে দলটি আত্মবিশ্বাস ও কৌশলগত গভীরতা পাবে বলে আশা করা যাচ্ছে। কোচ ওয়াহবির অধীনে খেলোয়াড়রা গত বিশ্বকাপের সাফল্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার লক্ষ্যে কঠোর প্রস্তুতি নেবে—এমনটাই তাদের লক্ষ্য। মরক্কোর ফুটবলপ্রেমীরা এখন অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, তাদের প্রিয় দলটি বিশ্বমঞ্চে কি রোমাঞ্চকর পারফরম্যান্স দেখাতে পারবে।














