আইপিএলের ইতিহাস নতুন করে লিখলেন মাত্র ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী। এলিমিনেটর ম্যাচে সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে মাত্র ২৯ বলে ব্যাট করে ১২টি ছক্কা ঠুকে তিনি দীর্ঘদিনের এক রেকর্ড ভেঙে ফেলেছেন এবং এক আসরে মোট ৬৫টি ছক্কার মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইউনিভার্স বেবি বস’ উপাধি দেওয়া হয়—ক্রিস গেইলের ‘ইউনিভার্স বস’ শিরোনামের এক আধুনিক, কিশোর সংস্করণ হিসাবে।
টস হারিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে বৈভব শুরুর থেকেই হঠাত্ আক্রমণ শুরু করেন। প্যাট কামিন্স ও সাকিব হোসেনের মতো অভিজ্ঞ বোলারদের সামনে দাঁড়িয়ে মাত্র ১৬ বলেই অর্ধশতক পূর্ণ করেন—আইপিএল প্লে-অফ ইতিহাসে এটি যৌথভাবে দ্রুততম হাফ-সেঞ্চুরি। শেষ পর্যন্ত ২৯ বলেই ৯৭ রান করে মাঠ ছাড়েন, যেখানে তার স্ট্রাইক রেট ছিল অবিশ্বাস্য ৩৩৪.৪৮। দ্রুততম শতকের বিশ্বরেকর্ড ছোঁয়ার কাছে পৌঁছাতে মাত্র ৩ রানের কমিটি বাকি ছিল—তবে তার অসাধারণ ইনিংস গ্যালারিতে উন্মাদনার স্রোত বয়ে দিয়েছিল।
ইনিংসের প্রথম ছয় ওভারের পাওয়ার প্লেতে একাই ৮টি ছক্কা মারেন বৈভব—পাওয়ার প্লের এ অংশে কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ছক্কার নতুন রেকর্ড এটি। এর ফলে ২০০৮ সালের লঙ্কান কিংবদন্তি সনাথ জয়াসুরিয়ার সাত ছক্কার পুরনো রেকর্ডও ধরা পড়ে। বৈভবের আগ্রাসী শুরুর ফলে রাজস্থান রয়্যালস সহজেই একটি বড় সংগ্রহের ভিত্তি গড়ে তুলতে পেরেছে এবং প্রতিপক্ষ বোলারদের মানসিকভাবে পিছনে ঠেলে দিয়েছে।
বয়স মাত্র ১৫ বছর ৪৩ দিন হলেও বৈভব টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যানও ছড়িয়ে দিয়েছেন। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দ্রুততম ব্যাটারের হিসেবে মাত্র ৫১৫ বল খেলেই ১০০টি ছক্কা পূর্ণ করার রেকর্ড গড়েছেন তিনি। এছাড়া আইপিএলে ২০ বলের কম সময়েই পাঁচটি হাফ-সেঞ্চুরি করার তালিকায় তিনি এখন নিকোলাস পুরানের পাশে আছেন; এই ক্ষেত্রে সামনে কেবল অভিষেক শর্মার ছয়বারের কীর্তি আছে। এই ধারাবাহিকতা দেখায় যে বৈভব কেবল এক ম্যাচের জন্য নয়, দীর্ঘ সময় ক্রিকেটে রাজত্ব করার যোগ্যতা রাখেন।
সংক্ষেপে, বৈভব সূর্যবংশীর এই অতিপ্রতিভা ও রেকর্ডভাঙা পারফরম্যান্স আইপিএল এবং আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। সবচেয়ে কনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে তার অর্জনগুলো ক্রিকেটবিশেষজ্ঞদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে এবং ভবিষ্যতে তিনি আরও বড় মাইলফলক ছুঁতে পারেন—এই প্রত্যাশা অনেকেই পোষণ করছেন। তার ভয়হীন ব্যাটিং আইপিএলের রোমাঞ্চকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছে।














