ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ২১শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৭ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৪ঠা জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

সান ডিয়েগো মসজিদে বন্দুক হামায় ৫ নিহত

সংযুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ার সান ডিয়েগো শহরের সবচেয়ে বড় মসজিদে বন্দুকধারীর হামলায় মোট পাঁচজন নিহত হয়েছেন। হত্যা-ঘটনায় নিহতদের মধ্যে একজন মসজিদে কাজ করা নিরাপত্তাকর্মী ও দুই পথচারী অন্তর্ভুক্ত; পরিস্থিতি রণক্ষেতে পরিণত হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মাথায় ঘটনাস্থল থেকে কিছু দূরে দুই কিশোর বন্দুকবিদ্ধ অবস্থায় মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়—পুলিশের ধারণা তারা নিজেদের গুলিতেই আত্মহত্যা করেছেন।

স্থানীয় সময় সোমবার (১৮ মে) প্রায় সকাল ১১টা ৪০ মিনিটের দিকে ‘ইসলামিক সেন্টার অব সান ডিয়েগো’তে দুই কিশোর বন্দুক নিয়ে মসজিদের ভেতরে গুলি চালায়। মসজিদে তখন একটি ডে-স্কুল চলছিল; কর্মকর্তারা জানিয়েছেন সব শিশু সঠিকভাবে সুরক্ষিত রাখা হয় এবং পরে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।

সান ডিয়েগো পুলিশ প্রধান স্কট ওয়াহল বলেন, ঘটনায় স্থানীয় পুলিশ ও এফবিআই মিলিয়ে তদন্ত করছে এবং এটি একটি ঘৃণা-ভিত্তিক অপরাধ (হেট ক্রাইম) হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে হামলার পেছনে কি উদ্দেশ্য ছিল, সে বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করা হয়নি।

পুলিশ জানান, গুলির ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর দুই ঘণ্টা আগে সন্দেহভাজন এক কিশোরের মা পুলিশকে ফোন করে জানান যে তার ছেলে আত্মহত্যার প্রবণতায় ভুগছে, তিনটি বন্দুক ও একটি গাড়ি নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে গেছে এবং ছদ্মবেশী পোশাক পরা অবস্থায় তার সঙ্গে আরও একজন সঙ্গী রয়েছে। পুলিশ ওই কিশোরকে খুঁজতে সতর্কতামূলক টহল চালাচ্ছিল—নজদিকের শপিং মল ও তার হাই স্কুলে টহল পাঠানো হয়—তখনই মসজিদে গুলির খবর আসে।

পুলিশ বলেন, হামলার আগে ওই কিশোর একটি চিরকুট রেখে গিয়েছিল; চিরকুটের বিষয়বস্তু প্রকাশ না করে পুলিশ এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে। বর্তমানে তদন্তকারীরা ঘটনা ও চিরকুটের কনটেক্সট মিলিয়ে তদন্ত চালাচ্ছেন।

ঘটনাস্থলে পৌঁছানো প্রায় অর্ধশত–শতাধিক পুলিশ কর্মকর্তা মসজিদের সঙ্গে যুক্ত তিন জনের গুলিবিদ্ধ মৃতদেহ উদ্ধার করেন। পরে মসজিদ থেকে কিছুটা দূরে একটি গাড়িতে ১৭ ও ১৮ বছর বয়সী দুই কিশোরের লাশ পাওয়া যায়। শুরুতে বড় কিশোরটির বয়স ১৯ বলা হলেও পরে তা সংশোধন করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর মাত্র চার মিনিটের মধ্যে ৫০-১০০ জন অভিযানকারী সদস্য ঘটনায় উপস্থিত হন; পুরো অভিযানের সময় পুলিশ পক্ষ থেকে কোনো গুলি হয়নি।

গোলাগুলোর সময় কাছাকাছি কয়েক ব্লক দূরে একজন বাগানকর্মীর উপরও গুলি চালানো হয়—তদন্তকারীরা দুটি ঘটনাকে সম্পর্কিত মনে করছেন। ওই কর্মী মাথায় হেলমেট পড়ে থাকায় জীবন বাঁচেন এবং কোনো গুরুতর আঘাত পৌঁছেনি।

ইসলামিক সেন্টারের ইমাম ও পরিচালক তাহা হাসান সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এর আগে কখনও এমন কোনো ট্র্যাজেডির মুখোমুখি হইনি। উপাসনালয়কে টар্গেট করা অত্যন্ত নির্মম ও উদ্বেগজনক।’ তিনি মসজিদ কমিউনিটিকে শান্ত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন এবং নিহতদের পরিবারকে সমবেদনা জানিয়েছেন।

ক্যালিফোর্নিয়ার গভর্নর গ্যাভিন নিউজম এই হামলার তীব্র নিন্দা জানান। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ‘ক্যালিফোর্নিয়ায় ঘৃণার কোনো স্থান নেই। উপাসনাকারীরা তাদের জীবন নিয়ে ভয়ে থাকা উচিত নয়; আমরা কোনো ধর্মীয় সম্প্রদায়ের ওপর সন্ত্রাস বা ভয়বর্বরতা সহ্য করব না।’

পুলিশ ও ফেডারেল কর্তৃপক্ষ ঘটনার পর উদ্ধারকাজ, প্রাথমিক তদন্ত ও প্রমাণ সংগ্রহে জোর দিচ্ছেন। কমিউনিটি নেতা ও মসজিদের সদস্যরা ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। ঘটনার সময় ঈদুল আজহা ও হজ পালনের মাত্র এক সপ্তাহ আগে হওয়ায় মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে উদ্বেগ ও দুঃখ আরও তীব্র বলে এলাকাবাসী জানিয়েছে। তদন্ত এখনও চলমান রয়েছে এবং পুলিশ ভবিষ্যতে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করবে বলে জানিয়েছে।