২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপে বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার গ্রুপসঙ্গী হিসেবে অস্ট্রিয়া ও জর্ডান তাদের দল ঘোষণা করেছে। ইউরোপীয় দল অস্ট্রিয়া দীর্ঘ ২৮ বছর পর বিশ্বকাপে ফিরে আসার উচ্ছ্বাসে ভাসছে—শেষবার তারা অংশ নিয়েছিল ১৯৯৮ ফ্রান্স বিশ্বকাপে। রাল্ফ রাগনিকের নেতৃত্বে অস্ট্রিয়া ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড প্রকাশ করেছে।
দলে প্রধান আকর্ষণ হিসেবে রয়েছেন জাতীয় দলের আইকন ও অধিনায়ক ডেভিড আলাবা। পাশাপাশি অভিজ্ঞ তারকারা মার্কো আরনাউটোভিচ, মাইকেল গ্রেগোরিটস ও মার্সেল সাবিটজারের ওপর রাগনিক ভরসা রেখেছেন। চমক হিসেবে দেখা গেছে গত মার্চে যথাক্রমে ইংল্যান্ড ও জার্মানি থেকে নাগরিকত্ব বা জাতীয়তা পরিবর্তন করা দুই মিডফিল্ডার কার্নি চুকুয়েমেকা ও পল ওয়ানারের অন্তর্ভুক্তি।
অস্ট্রিয়ার বিশ্বকাপ সূচি অনুযায়ী তারা ১৬ জুন জর্ডানের বিপক্ষে গ্রুপ ম্যাচ দিয়ে তাদের অভিযান শুরু করবে। পরবর্তী ম্যাচে ২২ জুন তারা বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার উপর চ্যালেঞ্জ জানাবে এবং ২৭ জুন গ্রুপ পর্বের শেষ ম্যাচে আলজেরিয়ার সঙ্গে মুখোমুখি হবে। ফুটবল বিশ্লেষকরা বলছেন—রাগনিকের দল যেখানে তরুণ প্রতিভা আর অভিজ্ঞতার মিশ্রণে সাজানো, সেখানে তারা বিশ্বকাপে কোনো বড় চমক দেখানোর সুযোগ রাখে।
অন্যদিকে এশীয় প্রতিনিধিত্বকারী জর্ডান ৩০ সদস্যের একটি প্রাথমিক স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। দলে সবচেয়ে বড় নাম হিসেবে আছেন দ্রুতগতির ফরোয়ার্ড মুসা আল তামারি। জর্ডান শিবিরে স্বস্তির খবর হলো অভিজ্ঞ অধিনায়ক এহসান হাদ্দাদ দীর্ঘ এক বছরের ইনজুরি-কাল কাটিয়ে দলে ফিরেছেন।
তবে খারাপ খবরও আছে—গত বছর আরব কাপে হাঁটুর চোটগ্রস্ত হওয়া নির্ভরযোগ্য স্ট্রাইকার ইয়াজান আল নাইমাত পুরোপুরি সুস্থ না হওয়ায় এই প্রাথমিক তালিকায় জায়গা পাননি। জর্ডানের ৩০ সদস্যের প্রাথমিক তালিকায় রয়েছে ৪ গোলরক্ষক, ১২ ডিফেন্ডার, ৭ মিডফিল্ডার ও ৬ ফরোয়ার্ড। তাদের গ্রুপ সূচি অনুসারে ১৬ জুন তারা অস্ট্রিয়ার বিরুদ্ধে গ্রুপের প্রথম ম্যাচ খেলবে, ২২ জুন আলজেরিয়ার বিপক্ষে ও ২৭ জুন লিওনেল মেসির আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে মাঠে নামবে।
জর্ডান কোচ জানিয়েছেন, প্রাথমিক তালিকা থেকে সেরা ২৬ জনকে চুড়ান্ত করে একটি প্রতিদ্বন্দ্বী দল তৈরি করার লক্ষ্য রয়েছে, যাতে বিশ্বমঞ্চে তারা সম্ভাব্য সেরা ছাপ রেখে পারফর্ম করতে পারে।
সামগ্রিকভাবে এই গ্রুপটিকে অনেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ মনে করছেন। অভিজ্ঞ অস্ট্রিয়া ফিরে এসে নিজেদের ক্ষমতা প্রমাণে মরিয়া, আর জর্ডান তাদের সাম্প্রতিক মহাদেশীয় সাফল্যের ধারাকে বিশ্বমঞ্চেও ধরে রাখতে চায়। ফলে ডেভিড আলাবা ও মুসা আল তামারির ব্যক্তিগত নৈপুণ্যকে ঘিরে অস্ট্রিয়া ও জর্ডানের ফুটবলপ্রেমীদের প্রত্যাশা উসকে উঠছে।














