ক্যারিবীয় ছোট দ্বীপ রাষ্ট্র কুরাসাও ফুটবলের বিশ্ব মানচিত্রে নাম লেখাতে যাচ্ছেন — ইতিহাস হচ্ছে তাঁদের ঘরে ফেরা। সবচেয়ে কম জনসংখ্যার দেশ হিসেবে প্রথমবারের মতো ফিফা বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা কুরাসাও গত সোমবার ২৬ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। গ্রুপ ‘ই’-তে তারা সম্মুখীন হবে জার্মানি, ইকুয়েডর এবং আইভরি কোস্টের মতো শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বীদের; কঠিন প্রতিপক্ষদের সামনে হলেও দল আত্মবিশ্বাসী এবং লড়াইয়ের পরিকল্পনা করে এসেছে।
টিমের ডাগআউটে দেখা যাবে অভিজ্ঞ নেদারল্যান্ডস সিরিয়ান কোচ ডিক অ্যাডভোকাটকে। প্রথমে বিশ্বকাপ যোগ্যতার পরে ফেব্রুয়ারি মাসে তিনি পদত্যাগ করলেও সম্প্রতি আবার দায়িত্ব নেন এবং বিশ্বকাপ ইতিহাসে সবচেয়ে বয়সী কোচ হওয়া নিয়ে গড়িয়ে আসা আলোচনার কেন্দ্রেও আছেন। অ্যাডভোকাট বাছাইপর্বে জারিত খেলোয়াড়দের ওপর ভর করে স্কোয়াড সাজিয়েছেন—তরুণ এবং অভিজ্ঞদের মধ্যে ভারসাম্য রেখে দলকে সেরা সম্ভাব্য অবস্থায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা তাঁর।
ঘোষিত স্কোয়াডের সবচেয়ে বিশেষ আকর্ষণ হলো বাকুনা ভ্রাতৃদ্বয়—লিয়েন্দ্রো বাকুনা ও জুনিনহো বাকুনা। দুই ভাই মিডফিল্ডে দলকে দমিয়ে রাখবেন; লিয়েন্দ্রোকে দেওয়া হয়েছে অধিনায়কের কার্ড, আর জুনিনহো বাছাইপর্বে তিনটি গোল করে দলের উত্তরণে বড় অবদান রেখেছেন। রক্ষণভাগে কোচ আস্থা রেখেছেন জুরিয়েন গারি ও রোশন ভ্যান ইজমার মতো প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ডিফেন্ডারদের ওপর, গোলরক্ষক হিসেবে দলের নির্ভরযোগ্য মুখে থাকবেন এলোয় রুম।
আক্রমণে কুরাসাও রাখছে তীব্র গতির ও গতিশীল ফরোয়ার্ডরা, যারা গ্রুপ পর্বের প্রতিপক্ষদের জন্য বড় বিপদ হয়ে দাঁড়াতে পারে। বাছাইপর্বে সমানভাবে ছাপ রাখা জারভেনে কাস্তানির ও কেনজি গোরির ওপর দলের গোল ভরসা, সঙ্গে আছেন অভিজ্ঞ জুর্গেন লোকাডিয়া ও জের্ল মারগারিথা। ২০২৫ সালে জাতীয় দলে অভিষেক করা তরুণ তারকা তাহিথ চং তার দ্রুত গতির দ্বৈত আক্রমণ শক্তি দিয়ে ম্যাচের গতিপ্রবাহ বদলে দিতে সক্ষম—এটাই দলের অন্যতম অস্ত্র। অ্যাডভোকাট এই আক্রমণভাগকে কাজে লাগিয়ে বড় দলগুলোর রক্ষণভাঙা পরিকল্পনা করেছেন।
গোলরক্ষক হিসেবে স্কোয়াডে আরও রয়েছেন টাইরিক বোডাক ও ট্রেভর ডোর্নবুশ। ডিফেন্স লাইনে জায়গা পেয়েছেন রিশেডলি বাজোয়ার, জশুয়া ব্রেনেট ও আরমান্দো ওবিস্পোসহ অন্যান্য দক্ষ রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা। কুরাসাওয়ের এই ২৬ সদস্যের স্কোয়াডটি তরুণ শক্তি ও অভিজ্ঞতার মিশ্রণে গঠিত—একদিকে গতিময় আক্রমণ, অন্যদিকে কঠিন প্রতিরক্ষার ইচ্ছাশক্তি।
নিশ্চিতভাবেই জার্মানি বা আইভরি কোস্টের মতো পরাশক্তি মোকাবিলা সহজ হবে না; তবু কুরাসাও ফুটবলাররা নিজেদের সামর্থ্যের একেবারে সেরাটা দিতে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। মাঠে নামলেই এই ছোট দ্বীপের বড় স্বপ্ন বাস্তবায়নের চেষ্টা চালিয়ে যাবে তারা—এবার বিশ্ববাসীর নজর কেবল মাঠেই থাকবে।














