ঢাকা | রবিবার | ১০ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৭শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৩শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

মেহেরপুরের ১,৪০০ কেজির ‘কালু’ যাবে ঢাকার হাটে

আসন্ন কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে মেহেরপুর গাংনীতে সবার নজর কাড়ছে একটি বিশাল ষাঁড়—নামে ‘কালু’। প্রায় ১,৪০০ কেজি ওজনের এই গরুটি দেখতে প্রতিদিন ভিড় করছেন নিজ ও পাশ্ববর্তী জেলার মানুষ; ছবি-ভিডিও ভাইরাল হয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ছে।

মটমুড়া গ্রামের মালিক মালয়েশিয়ায় প্রবাসী জহুরুল ইসলামের বাড়ির কালু দেখভাল করছেন তার স্ত্রী হোসনেয়ারা খাতুন। হোসনেয়ারার বক্তব্য, কালু জন্মের পর থেকে আড়াই বছর পরিবারের সদস্যদের মতো লালন-পালন করা হয়েছে। কোনো কৃত্রিম ইনজেকশন বা বিশেষ পদ্ধতি ছাড়া খাওয়া-দাওয়ায় রাখার ফলে গরুটির গঠন শক্তপোক্ত ও চেহারা আকর্ষণীয় হয়েছে।

স্থুল গায়ে কালো ও হালকা লাল রঙের মিশ্রণ আছে—বংশ অনুসারে এটি পাকিস্তানের সাইহওয়াল জাতের। হোসনেয়ারা জানিয়েছেন, গরুটির বর্তমান ওজন প্রায় ১,৪০০ কেজি (প্রায় ৩৫ মণ)। তার দাবি, কালুর লম্বা সাড়ে সাত ফুট এবং উচ্চতা সাড়ে ছয় ফুট; স্বভাবেও অত্যন্ত শান্ত। প্রতিদিন তার পেছনে বেদিতে খরচ পড়ছে প্রায় ৭০০–৮০০ টাকা। খাওয়ানোর মধ্যে রয়েছে ঘাস, তুষ, চালের গুঁড়া, খৈল ও গুড়।

স্থানীয়রা বলছেন, গরুটির খ্যাতি শুনে আশপাশের এলাকা থেকে প্রতিদিন লোকজন এসে দেখতে যায়, কেউ ছবি তোলে, কেউ ভিডিও করে শেয়ার করে। কোনো ক্রেতা ইতোমধ্যেই বাড়িতে এসে গরুটি দেখেছেন, তবে চূড়ান্ত দরদাম এখনো হয়নি। পরিবারটি জানায়—উপযুক্ত দাম পেলে বাড়ি থেকেই বিক্রি করে দেওয়া হবে; নাহলে তারা ঢাকায় হাটে নিয়ে গিয়ে ভাল দামে বিক্রি করার পরিকল্পনা করছেন।

প্রতিবেশী আতিয়ার রহমান বলেন, হোসনেয়ারা খুব পরিশ্রমী এবং তাঁর স্বামীর বিদেশে থাকার পরও ওই বাড়িতে এখন এগারোটি গরু রয়েছে, সবই তিনি লালন-পালন করেন। আরেক প্রতিবেশী শাহাজান আলি বলেন, তিনি ও ভাই মালয়েশিয়ায় থাকেন; ছুটি কাটাতে এসে দেখেছেন হোসনেয়ারা কীভাবে কালুকে সন্তানের মতো যত্ন করেছেন—খাওয়ানো, গোসল করানো, গরম লাগলে হাতপাখা দিয়ে দেয়াও তিনি করেছেন। হাফিজ আলী আরও বলেন, ‘‘এখানে কালুর মত এত বড় ষাঁড় আর নেই, তাই ভালো দাম পাওয়ার আশায় ঢাকার হাটে নেয়া হবে।’’

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যে দেখা যায়, মেহেরপুর জেলায় মোট প্রায় এক হাজার খামারি রয়েছেন। এ বছর কোরবানির জন্য জেলায় প্রস্তুত রয়েছে মোট ১ লাখ ৭২ হাজার ৫৬৯টি পশু। এর মধ্যে ষাঁড়/গরু ৪০,৩৪৯টি, বলদ ৪,৮৪৪টি, গাভি ৮,৫০৯টি; এছাড়া মহিষ ৪৮২টি, ছাগল ১ লাখ ১৫ হাজার ৬৬৫টি এবং ভেড়া ২,৭২০টি। জেলার কোরবানির চাহিদা প্রায় ৯০,২৩৪টি পশু; তা থেকে দেখা যাচ্ছে প্রায় ৮২,৩৩৫টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে।

কোরবানির মরশুম ঘনিয়ে আসায় এমন বিরল আকৃতির গরু নিয়ে গ্রামে উৎসাহ ও ব্যবসায়িক আলোচনাও বাড়ছে। মালিক পরিবার বলছে—যদি দাম মত থাকে, তাহলে এই ঈদে ‘কালু’ ঢাকার বড় হাটে মিলবে।