ঢাকা | রবিবার | ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

মিরপুরের প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরে রহস্যময় আগুন; ৮৩টি ল্যাপটপ অনুপস্থিত

রাজধানীর মিরপুরে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নতুন ভবনে রহস্যময় আগুনের ঘটনা ঘটেছে, যার ফলে ৮৩টি ল্যাপটপ অদৃশ্য রয়েছে। শুক্রবার ভোর সাড়ে চারটার দিকে ভবনের দ্বিতীয় তলায় আগুনের ধোঁয়া দেখে তাৎক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা হয়।

ঘটনাস্থলে দায়িত্বরত আনসার সদস্য আনোয়ারুল ধোঁয়া দেখে প্রথম নজর দিলে তিনি ডাটা এন্ট্রি অপারেটর আইয়ুব আলীকে জানান। পরে আইয়ুব ঘটনাটি প্রশাসন শাখার অফিস সহকারী এমাম হোসেনকে জানালে তিনি ৯৯৯-এ ফোন করে ফায়ার সার্ভিসকে জানতে জানান। ফায়ার সার্ভিস approximately ১৫–২০ মিনিটের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার পর প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ অন্যান্য উচ্চ अधिकारीরা অনলাইনে নয়, местуস্থেই এসে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। ক্যামেরায় দেখা যায়, ঘটনার দিন রাত দু’টার দিকে বোরকা পরা এক অজ্ঞাত ব্যক্তি দ্বিতীয় তলার অস্থায়ী স্টোররুমের তালা কৌশলে খুলে ওই কক্ষে ঢুকছেন। সূত্র অনুযায়ী ওই ব্যক্তি পাঁচবার কক্ষে প্রবেশ করেন, কিছু মালামাল এবং ল্যাপটপ নেওয়ার দৃশ্য ফুটে ওঠে এবং যাওয়ার সময় কক্ষে আগুন ধরিয়ে দেন।

প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, ওই সংরক্ষিত কক্ষে মোট ৭৩৫টি ল্যাপটপ ছিল। জরুরি যাচাই-বাছাই করলে দেখা গেছে ৪৫০টি ল্যাপটপ ভালো অবস্থায় পাওয়া গেছে, ৩৩টি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত, ২৯টি বেশি মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত এবং ১৪০টি সম্পূর্ণ পুড়ে গেছে। বাকী ৮৩টি ল্যাপটপ এখনো অনুপস্থিত।

ঘটনায় শনিবার প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. সাজ্জাদ হোসেন মিরপুর মডেল থানায় একটি মামলা করেছেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা বোরকা পরা এক ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, সিসি ফুটেজ এবং ক্ষতিগ্রস্ত সামগ্রীর ভিত্তিতে প্রতারণা ও দুর্নীতির সম্ভাব্য দিকগুলো খতিয়ে দেখা হবে এবং দ্রুতভাবে ল্যাপটপগুলোর অবস্থান নির্ণয়ের চেষ্টা করা হবে। পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের তদন্ত চলছে।