ঢাকা | রবিবার | ৩রা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৬ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র–সরঞ্জাম ব্যবহার করে ডাকাতি: র‍্যাব দুই গ্রেপ্তার

রবিবার র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) জানিয়েছে, জুলাই আন্দোলনের সময় বিভিন্ন থানা থেকে লুট হওয়া অস্ত্র, গোলাবারুদ ও সরঞ্জাম ব্যবহার করে দেশের বিভিন্ন স্থানে ডাকাতির ঘটনা ঘটানো হচ্ছে। এ ঘটনায় অস্ত্র–সরঞ্জামসহ দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

র‍্যাব বলছে, গত বৃহস্পতিবার রাতের অভিযানে রাজধানীর ডেমরার মেন্দিপুর এলাকায় ডাকাতির প্রস্তুতিকালে চক্রের দুই সদস্যকে ধরা হয়। গ্রেপ্তারদের নাম—চক্রের ‘হোতা’ মো. আলামিন (জানাগ্রহণ অনুযায়ী মোটা আলামিন) ও তাঁর সহযোগী মো. রায়হান।

শনিবার কারওয়ান বাজারের র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক উইং কমান্ডার এম জেড এম ইন্তেখাব চৌধুরী বলেন, গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, চার রাউন্ড গুলি, একটি মাইক্রোবাস, ভুয়া নম্বরপ্লেট, র‍্যাবের জ্যাকেট, দুইটি হাতকড়া, ওয়াকিটকি, স্টিকারসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার হওয়া দুটি হাতকড়া গত ৫ আগস্ট একটি থানায় থেকে লুট হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে; তবে কোন থানা তা নির্দিষ্ট করা যায়নি।

র‍্যাব কর্মকর্তা বলেন, ওই চক্র দীর্ঘদিন ধরে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পোশাক পরে হ্যান্ডক্যাপ, ওয়াকিটকি ও পিস্তল দেখিয়ে ডাকাতি করে আসছিল। তারা যাত্রীবাহী বাস ও মাইক্রোবাস থামিয়ে অস্ত্রের মুখে যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা ও মূল্যবান সামগ্রী লুট করত। কখনো তারা র‍্যাব, কখনো পুলিশ আবার কখনো যৌথবাহিনীর পরিচয় দিয়ে অভিযান চালানোর নাম করে ডাকাতি করেছে।

কমান্ডার ইন্তেখাব চৌধুরী আরও বলেন, আলামিন এই চক্রের অন্যতম প্রধান। তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক ডাকাতি, চুরি ও অস্ত্র মামলা রয়েছে। ২০২৩ সালে কেরানীগঞ্জে স্বর্ণ ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে র‍্যাব পরিচয়ে ৭১ লাখ টাকা লুটের ঘটনায়ও তিনি আসামি ছিলেন।

র‍্যাব জানায়, ২০২৫ সালের মে মাসে ডাকাতি মামলায় আলামিন র‍্যাবের হাতে গ্রেপ্তার হলেও পরে জামিনে বেরিয়ে আবার অপরাধে জড়িয়েছে। তার বিরুদ্ধে ঢাকার খিলগাঁও, কেরানীগঞ্জ, মুগদা, টাঙ্গাইল জেলা সদর এবং নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জ থানায় ডাকাতি, চুরি ও অস্ত্র মামলা মিলিয়ে মোট আটটি মামলার তথ্য রয়েছে।

গ্রেপ্তার রায়হান পেশায় চালক হলেও তিনি ডাকাত দলের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী ছিল বলে র‍্যাবের জানা গেছে। র‍্যাব বলেছে, রায়হান যানবাহন যোগান, রুট নির্ধারণ এবং পালানোর পরিকল্পনা তৈরি করত।

র‍্যাব সংবাদ সম্মেলনে জানায়, উদ্ধারকৃত সামগ্রী এবং গ্রেপ্তারদের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মামলাটি তদন্ত করা হচ্ছে এবং অপর অভিযুক্তদের ধরতে চালানো হচ্ছে অনুসন্ধান৷