ফিফার এড়া-চরিত্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত (সিএএস)-এর দ্বারস্থ হয়েছে প্যালেস্টিনিয়ান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (পিএফএ)। তারা দাবি করে ফিফা পশ্চিম তীরের অবৈধ বসতিগুলোতে গড়ে ওঠা ইসরায়েলি ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে অনীহা দেখিয়েছে, যা তারা ‘অন্যায্য’ মনে করছে। পিএফএ গত ২০ এপ্রিল আনুষ্ঠানিকভাবে সিইএএস-এ আপিল দায়ের করে।
পিএফএ বলেছে, দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে তারা ফিফার নিকট দাবি জানিয়ে আসছে যে অধিকৃত পশ্চিম তীরের বিভিন্ন বসতিতে গড়া এসব ক্লাব আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করছে। এই ক্লাবগুলো নিয়মিতভাবে ইসরায়েল ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের (আইএফএ) লিগে অংশ নিয়ে থাকে, কিন্তু ফিফা এখন পর্যন্ত কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়নি। গত মাসে ফিফা যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল — পশ্চিম তীরের আইনি অবস্থা আন্তর্জাতিকভাবে উন্মুক্ত হওয়ায় তারা আইএফএ বা সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে না — সেজন্যই পিএফএ ক্রীড়া আদালতে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ভ্যাঙ্কুভারে আয়োজিত এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) কংগ্রেস শেষে পিএফএ-র সহ-সভাপতি সুসান শালাবি এই আপিলের কথা নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ফিফার কাছে যাবতীয় আইনগত পথ অনুসরণ করেও ন্যায়বিচার না পেয়ে তারা চূড়ান্তভাবে আন্তর্জাতিক আদালতের আশ্রয় নিয়েছেন। শালাবি আরও বলেন, ‘‘ফিফা পরিষদ দীর্ঘ প্রায় ১৫ বছর আলোচনা করেও বিষয়টি এড়িয়ে গেছে, যা ফিলিস্তিনি ফুটবলের জন্য চরম হতাশাজনক।’’ তিনি যোগ করেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত তারা এই আইনি লড়াই চালিয়ে যাবেন।
শালাবি ফিলিস্তিনি ফুটবলের বর্তমান দুরবস্থারও বর্ণনা দেন। তিনি জানান, গাজার অধিকাংশ ফুটবল অবকাঠামো ধ্বংস হয়ে গেছে এবং সেখানে খেলাধুলার মতো কোনো স্বাভাবিক পরিবেশ নেই। চলমান সংঘাতের কারণে শত শত ফুটবলার, অনেকেই শিশু ও কিশোর, প্রাণ হারিয়েছেন। পেশাদার লিগ বন্ধ থাকার পাশাপাশি মাঠের অবস্থা বিপজ্জনক হওয়ায় ফিলিস্তিনি ফুটবল এখন অস্তিত্ব সংকটের মুখে। এমন মানবিক ও অবকাঠামোগত বিপর্যয়ের সময়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থার কাছ থেকে প্রয়োজনীয় আইনি সহায়তা না মিলাকে তারা পক্ষপাতমূলক বলেই দেখে।
পিএফএর আপিল ক্রীড়া ও মানবাধিকার উভয় প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক মনোযোগ আকর্ষণ করতে পারে — তাদের আশা ন্যায়পরায়ণের একটি পোর্টাল খুলবে যা ফিলিস্তিনি ফুটবলারদের অধিকার রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। সিএএস-এর সিদ্ধান্ত কবে আসবে তা এখনো নির্দিষ্ট নয়, তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও সমর্থকরা তা সাবধানতার সঙ্গে অনুসরণ করছে।














