ঢাকা | বৃহস্পতিবার | ৩০শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৭ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

শামীমা পারভীন ঢাকার ইতিহাসে প্রথম নারী পুলিশ সুপার

পুলিশ সুপার (এসপি) হিসেবে ঢাকার প্রথম নারী নিযুক্তি পেলেন শামীমা পারভীন। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে তার নিয়োগের খবর দেয়া হয়েছে।

চলতি সময়ে তিনি বাংলাদেশ পুলিশের এআইজি (শিক্ষা, ক্রীড়া ও সংস্কৃতি) হিসেবে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে দায়িত্ব পালন করতেন। ২০০৬ সালে পুলিশ বাহিনীতে যোগদানের পর গত আঠারো বছরে তিনি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নানা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে কাজ করেছেন।

তার ক্যারিয়ারকে সবচেয়ে উজ্জ্বল মাইলফলকগুলোর একটি হচ্ছে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনে হাইতিতে পরিচিত নারী ফরমড পুলিশ ইউনিটের (Female Formed Police Unit) নেতৃত্ব দেয়া; সেখানে তিনি ১৩৯ সদস্যের এক ইউনিটের কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

দেশে তিনি ডিএমপির ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টারে সহকারী কমিশনার হিসেবে কাজ করে ধর্ষণ-নিযুক্ত বা নির্যাতিত নারী ও শিশুদের আইনি সহায়তা ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছেন। এসপি পদমর্যাদা পাওয়ার আগ পর্যন্ত এআইজি হিসেবে তিনি পুলিশ সদস্যদের সন্তানদের শিক্ষা ও ক্রীড়া বিষয়ক উন্নয়নমূলক কার্যক্রমও দেখভাল করছিলেন।

শ academically, তিনি ২০২২ সালে ‘অস্ট্রেলিয়া অ্যাওয়ার্ডস’ বৃত্তি প্রাপ্তি করে সিডনির ম্যাককোয়ারি (Macquarie) বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার অব কাউন্টার-টেরোরিজম এবং মাস্টার অব সিকিউরিটি অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ ডিগ্রি অর্জন করেন। এছাড়া তিনি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যানে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ক্রিমিনোলজিতে এমএসএস ডিগ্রি সংগ্রহ করেছেন। পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তিনি ইতালির COESPU থেকে ‘প্রোটেকশন অব সিভিলিয়ান’ এবং সিডনি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘উইমেন লিডারশিপ’ বিষয়ক প্রশিক্ষণও নিয়েছেন।

নড়াইল জেলার কৃতিসন্তান শামীমা পারভীন বর্তমানে ঢাকার অফিসার্স ক্লাব ও বাংলাদেশ পুলিশ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য হিসেবেও কর্মজীবন চালিয়ে যাচ্ছেন।

এদিকে, সরকারের সাম্প্রতিক কয়েকটি পদোন্নতির ধারাবাহিকতায় গত ২২ এপ্রিলও ঢাকা জেলার প্রথম নারী জেলা প্রশাসক (ডিসি) হিসেবে ফরিদা খানমকে নিয়োগ দেয়ার প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছিল। শামীমা পারভীনের নিয়োগকে রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধির এক নতুন ইঙ্গিত হিসেবে দেখা হচ্ছে।