ব্রাহ্মণবাড়িয়ার তিতাস গ্যাস ফিল্ডে দেশের প্রথম গভীর অনুসন্ধান কূপ তিতাস-৩১ খনন কাজ শুরু হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, কূপটি থেকে খনন শেষে দিনে আনুমানিক ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের প্রত্যাশা করা হচ্ছে। রোববার দুপুরে সদর উপজেলার বুধল এলাকায় এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) একেএম. মিজানুর রহমান।
জানা গেছে, বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ডস কোম্পানি লিমিটেড (বিজিএফসিএল) পরিচালিত তিতাস ফিল্ডের বর্তমানে ২২টি কূপ থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন প্রায় ৩২৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হচ্ছে। দীর্ঘ সময় ধরে উত্তোলনের ফলে ফিল্ডের মজুত ও চাপ হ্রাস পাওয়ায় উৎপাদনে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে। গ্যাসের নতুন উৎস শনাক্ত ও উৎপাদন বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে বিজিএফসিএল, যার অংশ হিসেবে ‘থ্রিডি সাইসমিক জরিপ প্রকল্প’ পরিচালনা করা হয়েছে।
এর প্রেক্ষিতে তিতাস ও বাখরাবাদ ফিল্ডে দুইটি গভীর অনুসন্ধান কূপ খনন করা হচ্ছে। তিতাসের নতুন কূপটি প্রায় ৫ হাজার ৬০০ মিটার গভীরে খনন করা হবে এবং কাজটি সম্পন্ন হতে আনুমানিক সাত মাস সময় লাগবে। খনন কার্যক্রম পরিচালনা করছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সিসিডিসি। খনন শেষে এই কূপ থেকে দৈনিক প্রায় ১৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস উত্তোলনের পরিকল্পনা রয়েছে।
বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিক বলেন, তিতাস সহ কোম্পানির অন্য ফিল্ডগুলো থেকে উৎপাদন বাড়াতে নতুন কূপ খনন ও পুরোনো কূপগুলোর ওয়ার্কওভার প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। তিতাস ও বাখরাবাদ ফিল্ডে দু’টি গভীর অনুসন্ধান কূপ সফলভাবে খনন হওয়া গেলে এটি জ্বালানি খাতে একটি মাইলফলক হবে এবং দেশের জ্বালানি সংকট অনেকাংশেই কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হবে।
পেট্রোবাংলার পরিচালক (অর্থ) একেএম. মিজানুর রহমান বলেন, চলতি বছরের মধ্যে ৫০টি কূপ খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধপ্রেক্ষাপটের কারণে দেশীয় জ্বালানির উৎস অনুসন্ধান এখন বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ; এই ঝুঁকিমুক্ত উৎস সন্ধানই দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা বাড়াতে সহায়ক হবে।
খনন কাজের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন বিজিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আব্দুল জলিল প্রামাণিক, কোম্পানি সচিব মোজাহার আলী, প্রকল্প পরিচালক মো. মাহমুদুল নবাব, খনন ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের পরিচালক লাইলিনজেন্টসহ বিজিএফসিএলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, কূপটি সফলভাবে খনন ও উত্তোলন কাজে লাগলে দেশের জ্বালানি খাতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হবে এবং আমদানি নির্ভরতা কিছুটা হলেও কমে যাবে।














