ঢাকা | রবিবার | ১৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২রা জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

ছয় বিভাগে কালবৈশাখী পূর্বাভাস, নদীবন্দরগুলোতে ১ ও ২ নম্বর সতর্ক সংকেত

আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের ছয়টি বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় কালবৈশাখী ও বজ্রসহ বৃষ্টির সতর্কতা জারি করেছে। সঙ্গে কিছু নদীবন্দরকে সতর্কতা সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

অধিদপ্তরের সতর্কবার্তায় বলা হয়েছে, রাজশাহী, রংপুর, দিনাজপুর, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল ও কুষ্টিয়া এলাকার ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিকে ঘণ্টায় ৬০-৮০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ী ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দরগুলোকে ২ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

ঢাকা, ফরিদপুর, মাদারীপুর, ময়মনসিংহ এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের ওপর দিয়ে পশ্চিম বা উত্তর-পশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিমি বেগে বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ী দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। এই এলাকাগুলোর নদীবন্দরগুলোকে ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, ‘যদি কালবৈশাখী ঝড় হয় এবং তার তীব্রতা বেশি থাকে, তাহলে এসব অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। ভারী বর্ষণ বা শিলাবৃষ্টি হলে নানাভাবে ক্ষতি হতে পারে।’ তিনি বাড়তি সতর্কতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের নিয়মিত বুলেটিনে বলা হয়েছে, এদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী ২৪ ঘন্টার মধ্যে রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় এবং রাজশাহী, ঢাকা, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের কয়েকটি জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়া, বিদ্যুৎ চমকানোসহ বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। কোথাও কোথাও বিক্ষিপ্ত শিলাবৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। দেশের অন্যত্র আকাশ আংশিক মেঘলা থেকে প্রধানত শুষ্ক থাকার সম্ভাবনা আছে।

আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, রংপুর, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগে দিনের তাপমাত্রা ১ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত কমতে পারে; রাতের তাপমাত্রাও সামান্য কমতে পারে। দেশের অন্যান্য অংশে তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকার সম্ভাবনা আছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে রাজশাহী ও রাঙামাটিতে—উভয় জায়গায় ৩৬.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস। সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল রাঙামাটিতে ২১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এ সময়ে সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত (২৫ মিলিমিটার) নিকলী, কিশোরগঞ্জে প্রতিবেদন করা হয়েছে; অন্যত্র উল্লেখযোগ্য বৃষ্টিপাত দেখা যায়নি।

আবহাওয়াবিদদের পরামর্শ হলো—সতর্ক সংকেত দেখানো নদীবন্দরগুলোতে নৌ চলাচলে সতর্কতা বজায় রাখা, খোলা জায়গায় পার্ক করা ঢিলেঢালা বস্তুগুলো ঠিক করে রাখা এবং বজ্রঝড়ের সময় নিরাপদ স্থানে আশ্রয় গ্রহণ করা।