ঢাকা | বুধবার | ১৫ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২রা বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৭শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

পহেলা বৈশাখে ধর্ম-বর্ণ বিভেদের কোনো স্থান নেই: তথ্যমন্ত্রী

তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেছেন, পহেলা বৈশাখের উৎসবকে ধর্ম, বর্ণ বা কোনো প্রকার বিভেদের ছায়ায় ঢাকা যাবে না। মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উদযাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মন্ত্রী বলেন, পহেলা বৈশাখ মূলত আনন্দ ও ঐক্যের উৎসব; এই আনন্দের মধ্যে ভেদাভেদ থাকার কোনো সুযোগ নেই। এটি শুধুমাত্র তাত্ত্বিক আলোচনা নয়, বরং বাঙালির হাজার বছরের অসাম্প্রদায়িক চেতনার বহিঃপ্রকাশ—এক ধরনের মিলনমেলা।

তিনি ১৪৩৩ বঙ্গাব্দকে সম্ভাবনাময় বছর হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বর্তমান সরকার আগামী বছরজুড়ে দেশের কৃষি-নির্ভর অর্থনীতির উন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাবে। নববর্ষ উদযাপন ও নীতি-প্রয়োগের মাধ্যমে কৃষকের অর্থনৈতিক স্বার্থ নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে তিনি জানান।

মন্ত্রী বাংলাদেশের ক্যালেন্ডার সংস্কারের ঐতিহাসিক কারণও তুলে ধরেন—হিজরী ও গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারের সমন্বয়ে বাংলা নববর্ষ চালু করার মূল উদ্দেশ্য ছিল বাংলার কৃষি ও কৃষকের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা। এই প্রেক্ষাপট থেকে পহেলা বৈশাখকে কৃষি ও কৃষকের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে জড়িত রেখে দেখার আহ্বান জানানো হয়।

স্বপন আরও জানান, বর্তমান সরকারের কৃষকবান্ধব নীতির প্রতিফলন হিসেবে এই বছর প্রধানমন্ত্রী টাঙ্গাইলে সরাসরি কৃষকদের সঙ্গে নববর্ষ উদযাপন করেছেন এবং সেখানে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ করেছেন, যা কৃষকদের সুবিধা বাড়াতে সহায়ক হবে।

অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা এবং শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদও বক্তব্য দেন। তারা সবাই পহেলা বৈশাখের সার্বজনীনতা ও সাংস্কৃতিক মূল্যবোধের ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন।