ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় জনপ্রিয় শিল্পী রুমানা মোর্শেদ কনকচাঁপার সঙ্গে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঘটে যাওয়া অশোভন আচরণ নিয়ে বিএনপি নেতৃত্বে আলোচনা চলছে। গতকাল শনিবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে নয়াপল্টনের বিএনপি কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংরক্ষিত নারী আসনের মনোনয়নপত্র জমা দিতে গিয়ে বগুড়ার কিছু নারী নেতা–কর্মীর করতlier উত্তেজনা ও হট্টগোলের কারণে কনকচাঁপা আপাতত বাধার মুখে পড়েন। তারা তার উদ্দেশে অপ্রাসঙ্গিক স্লোগান দিতে থাকলে পরে সহকর্মীদের সহযোগিতায় তিনি মনোনয়নপত্র জমা দিতে সক্ষম হন।
ঘটনাটি নিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, কারা এই আচরণ করেছে তাদের মধ্যে সংস্কৃতিগত ঘাটতি দেখা যায় এবং এধরনের আচরণ সম্পূর্ণভাবে অনুচিত। রিজভী বলেন, সেলিব্রেটিরা কেন দলের পাশে দাঁড়াতে পারবে না—এটা অন্য কোনো দেশে সহজে দেখা যায় না। বড় শিল্পী যদি আন্দোলন ও সংগ্রামে অনানুষ্ঠানিকভাবে ভূমিকা রাখেন, তাতেও দলের জন্য অনেক কাজ হয়।
রিজভী আরও বলেন, একজন সম্মানিত শিল্পীর সঙ্গে পার্টি অফিসে এ রকম আচরণ করা মানতে পারা যায় না। তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, এমাজ উদ্দিন স্যার রাস্তায় দাঁড়িয়ে মিছিল না করলেও বিএনপিকে সমর্থন করতেন, এবং এমন সমর্থনও দলের জন্য মূল্যবান। যে সমস্ত নেতাকর্মীরা কনকচাঁপার সঙ্গে বাজে আচরণ করেছে তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে রিজভী আশ্বাস দিয়েছেন।
অপর দিকে কনকচাঁপা নিজেই একটি দীর্ঘ ফেসবুক পোস্টে ঘটনার উল্লেখ করে বিচার আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিয়েছেন এবং দলের প্রতি তার আনুগত্যের কথাই বলেছেন। পোস্টে তিনি বলা–চালান— তিনি সব সিদ্ধান্ত আল্লাহর এবং দলের সম্মানিত নীতিনির্ধারকদের ওপর ছেড়ে দেন। ২০১৩ সালে বেগম খালেদা জিয়ার উৎসাহে রাজনীতিতে আসা, ২০১৮ সালের নির্বাচনে একজন বরিষ্ঠ রাজনীতিবিদের মুখোমুখি হয়ে লড়াই করা—সবকিছুই তার জন্য কঠিন ছিল। সেই সময় থেকে মানসিক ও আর্থিক কষ্ট, নির্যাতন ও নানা ভোগান্তির সম্মুখীন হতে হয়েছিল, এবং গাইতে না পারার কারণে তার শিল্পজীবন প্রভাবিত হয়েছে।
কনকচাঁপা লিখেছেন, চলতি ত্রয়োদশ নির্বাচনে তিনি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্মতিক্রমে নিজের নির্বাচনী এলাকায় কাজ শুরু করেছিলেন এবং বছরের পর বছর দলের ভেতরের বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে নিরলসভাবে কাজ করেছেন। যদিও শেষ পর্যন্ত দল তাকে মনোনিত করেনি, তবু ওটা তিনি মেনে নিয়েছেন এবং দলের প্রতি তার আনুগত্য শতভাগ রইল। তিনি অভিযোগ করেন, যাঁরা প্রথমে চাননি যে তিনি নমিনেশন পান, তাঁরা এখনও মিথ্যাচার ও অপচেষ্টায় লিপ্ত আছেন এবং ইচ্ছাকৃতভাবে তাকে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চলছে।
পোস্টে কনকচাঁপা বলেন, দলের কারও কতটুকু যোগ্যতা আছে নির্ধারণ করা নেতা-ম uর্থদের কাজ, এবং নমিনেশন চাওয়ার অধিকার সবারই আছে। শেষ পর্যন্ত অন্যায়ের বিচার তিনি আল্লাহর ওপর ছেড়ে দিচ্ছেন, তবে দলের ইমেজ ক্ষুণ্ন হলে তিনি দুঃখিত হবেন।
ঘটনার প্রেক্ষিতে রুহুল কবির রিজভী ও দলের অন্য নেতারা বিষয়টি যাচাই করে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন।













