রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে কৃষ্ণসাগর অঞ্চলে নতুন করে সামরিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার প্রভাবেই আন্তর্জাতিক বাজারে গমের দাম প্রায় ৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই অঞ্চলটি বিশ্ব খাদ্যশস্য সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হওয়ায় অস্থিরতা বিশ্ব খাদ্যনিরাপত্তাকে নতুন করে ঝুঁকিতে ফেলেছে—এমনই সতর্কতা দিয়েছে হেলেনিক শিপিং নিউজ ও বাজার বিশ্লেষকরা।
শিকাগো এক্সচেঞ্জ (সিবিওটি)‑তে গমের ভবিষ্যৎ চুক্তির মূল্য বাড়ার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে আজভ সাগরে রাশিয়ার জাহাজে ইউক্রেনের ড্রোন হামলার খবরকে মনে করা হচ্ছে। ইউক্রেন জানিয়েছে তারা শস্যবাহী কার্গো জাহাজসহ প্রায় ৭৬টি রুশ জলযানে আঘাত করতে সক্ষম হয়েছে। উল্লেখযোগ্য যে, রাশিয়ার মোট শস্য রপ্তানির প্রায় এক‑চতুর্থাংশই আজভ সাগরের এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ওই হামলার পর অঞ্চলটিতে জাহাজ চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে, ফলে সরবরাহ চেইন বিঘ্নিত হচ্ছে এবং বাজার বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন—যদি এই অচলাবস্থা দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে বিশ্ববাজারে গম সংকট তীব্র হতে পারে।
অপরদিকে রাশিয়া পাল্টা সুবিধা হিসেবে ইউক্রেনের ওডেসা ও ইজমাইলের মতো প্রধান বন্দরগুলোর অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালায়, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করেছে এবং সমুদ্রপথে শস্য পরিবহনে অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।
তবে গমের বাজারের এই অস্থিরতার মাঝেই ভুট্টা ও সয়াবিনের দিকে কিছুটা ভালো খবর এসেছে। মার্কিন কৃষি বিভাগ (ইউএসডিএ) জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান শস্য উৎপাদনকারী অঞ্চলে বৈরী আবহাওয়ার পরও ভুট্টা ও সয়াবিনের উৎপাদন পরিস্থিতি আগের সপ্তাহের তুলনায় উন্নত হয়েছে। সরকারি তথ্যে বলা হয়েছে বর্তমানে আমেরিকার প্রায় ৬৮ শতাংশ ভুট্টা এবং ৬৫ শতাংশ সয়াবিন ভালো অবস্থায় রয়েছে।
এই উৎপাদন পরিস্থিতির উন্নতির খবর পেয়ে আন্তর্জাতিক বাজারে ভুট্টা ও সয়াবিনের দাম নেমে এসেছে; শিকাগো বোর্ডে সয়াবিনের দাম বুশেলপ্রতি ১১ ডলার ৮৭ সেন্ট এবং ভুট্টার দাম ৪ ডলার ৫৭ সেন্টে নেমে এসেছে। যদিও গমের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ভোক্তা ও বাজারকে চিন্তিত করেছে, প্রধান দুই শস্যের দাম কম থাকায় সামগ্রিকভাবে বাজার কিছুটা স্থিতিশীল থাকার সহায়ক হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামনের দিনগুলোতে সামুদ্রিক নিরাপত্তা ও বন্দর অবকাঠামোর ওপর হামলা কেমন প্রভাব ফেলে—এটাই নির্ধারণ করবে খাদ্যশস্যের বিশ্ববাজারে মূল্যস্তরের ভবিষ্যত গতিবিধি।














