ঢাকা | রবিবার | ১৯শে জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৫ই সফর, ১৪৪৮ হিজরি

জামায়াত যদি শেখ হাসিনার টোনে কথা বলে, জনগণ তা মেনে নেবে না: রুহুল কবির রিজভী

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, জামায়াত সব সময় ঝোঁক করে ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করতে গিয়ে নিজেই পানিতে পড়ে যায়। সীমান্ত হত্যাকাণ্ড, পুশইনসহ নানা ঘটনার পরও ৫ আগস্টের পর ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা বলা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি অগোছালো ও লোকবাধ্য হবে। তিনি বলেন, যদি জামায়াত আওয়ামী লীগ বা শেখ হাসিনার টোনে কথা বলে, জনগণ তা মেনে নেবে না। শুক্রবার (১৭ জুলাই) যাত্রাবাড়ী প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী আরো বলেন, ইতিহাসে যাত্রাবাড়ী ও রায়েরবাগে যে প্রতিরোধ গড়ে উঠেছিল, তা চিরস্মরণীয় থাকবে এবং আন্তর্জাতিক ইতিহাসেও এটি একটি গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায় হিসেবে থাকবে। তিনি স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন, শ্রাবণের বৃষ্টির মতো সেই দিনে যখন গোলাগুলি চালানো হচ্ছিল, তখন বিএনপি-ছাত্রদল, জামায়াত-শিবির, মাদ্রাসার ছাত্ররা সহ নানা সংগঠন নির্ভয়ে বুক চিতিয়ে প্রতিরোধ গড়েছিল।

তিনি কটাক্ষ করে বলেন, “হাসিনা এ দেশের মানুষের রক্ত ঝরিয়েছে। তার বাবাও একই কাজ করেছে। শেখ হাসিনা যদি ফিরে এসে রাজনীতি করতে চান, তাহলে ইয়াহিয়া ও টিকা খানের কোন দোষ ছিল? শেখ হাসিনা তাদের চেয়ে কম কি করেছে?” রিজভী অভিযোগ করেন, অনেকেই টকশোতে ইনিয়ে-বিনিয়ে শেখ হাসিনার সাফাই গাওয়ার চেষ্টা করছেন, কিন্তু তিনি প্রশ্ন তুলেন—যদি হাসিনা এতই সাহসী থাকেন, তাহলে পালিয়ে কেন গিয়েছিলেন? খালেদা জিয়া তো পালাননি।

রিজভী আরও বলেন, “হাসিনা যে কতটা নিষ্ঠুর, তা তখনই বোঝা যাবে যখন কারাগারে নেতাদের ওপর প্রহার করা হয়েছে।” তিনি সতর্ক করে বলেন, ফ্যাসিস্ট দলকে ফিরে আনা যাবে না, হিটলারের দলও ফিরে আসেনি—অতৎপরতায় এমন শক্তি ফেরানো সম্ভব নয়।

আলোচনা শেষে রিজভী সবাইকে ঐতিহাসিক প্রতিরোধের স্মৃতি রক্ষা করে উদ্বেগ ও সতর্কতা বজায় রাখার আহ্বান জানান।