তেলুগু সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভুর ক্যারিয়ারে নতুন এক মাইলফলক গড়েছে ‘মা ইন্তি বাঙ্গারাম’। মুক্তির পর বিংশভাগ অঙ্গনে ছড়িয়ে ছবিটি বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটি রুপির আয় ছাড়িয়েছে এবং প্রথম নারীপ্রধান তেলুগু ছবি হিসেবে ১০০ কোটির ক্লাবে প্রবেশের ইতিহাস তৈরি করেছে।
এর আগে ২০১৮ সালে কীর্তি সুরেশ অভিনীত ‘মহানতি’ ৮৩ কোটি রুপির আয় করে নারীপ্রধান তেলুগু ছবির শীর্ষে ছিল, যা এখন দ্বিতীয় স্থানে নামল। সমগ্র অঞ্চলের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ব্যারোমিটার—নারী কেন্দ্রিক গল্পও বড় স্ক্রিনে ব্যাপক দর্শকপ্রাপ্তি ও বাণিজ্যিক সাফল্য পেতে পারে।
এই সাফল্যের খবরটি নিজেই ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন ভিডিও পোস্ট করে জানিয়ে দিয়েছেন সামান্থা। ভিডিওতে দেখা যায়, ৩৯ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী একা বসে থাকা অবস্থায় তাঁর স্বামী রাজ নিদিমরু হাতে একটি আইপ্যাড নিয়ে কাছে আসে। আইপ্যাড আনলক করলে সেখানে ‘মা ইন্তি বাঙ্গারাম’-এর বিশ্বব্যাপী ১০০ কোটির ক্লাবে প্রবেশের বিশেষ পোস্টার দেখায়—সেই মুহূর্তে সামান্থার মুখে প্রশস্ত হাসি ফুটে উঠে এবং আনন্দে তিনি বিরাম না মিলানো উত্তেজনা প্রকাশ করেন।
সামান্থা তার পোস্টে দর্শকদের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে লিখেছেন যে মুক্তির আগের দিনগুলোতে তিনি প্রচণ্ড উদ্বিগ্ন ছিলেন—দর্শক ছবিটি নিয়ে কতটা আগ্রহী হবে, প্রচারণার কাজ ঠিকভাবে পৌঁছেছে কি না, এসব নিয়েই অনিশ্চয়তা ছিল। কিন্তু অপূর্ব প্রতিক্রিয়া দেখে তিনি দারুণ কৃতজ্ঞ ও সান্ত্বিত বোধ করছেন।
উপমহাদেশের চলচ্চিত্রে নারীপ্রধান গল্পগুলো কখনোই সবসময় বড় পরিসরে বাণিজ্যিক সাফল্য পায় না—এই প্রেক্ষাপটে সামান্থার অর্জন একটি নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে দিয়েছে। সামান্থার বক্তব্য, সত্যিকারের পরিবর্তন তখনই সম্ভব যখন শিল্পীরা ও প্রযোজকরা ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত থাকবেন। তিনি আশা প্রকাশ করেছেন, তার ছবির এই সাফল্য ভবিষ্যতে নায়িকাকেন্দ্রিক সিনেমা সম্পর্কে প্রচলিত ধ্যানধারণা বদলে দেবে এবং প্রযোজকদের মনোভাবও ইতিবাচকভাবে পরিবর্তিত হবে।
বাণিজ্যিক সাফল্যের বাইরে, এই রেকর্ডটি নারী কেন্দ্রীক গল্পকে বড় পর্দায় আরও আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে উপস্থাপিত করার দিকেও এক শক্তিশালী প্রেরণা দেবে—এটাই অনেকে মনে করছেন। সামান্থা এই মুহূর্তে ভক্তদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেছেন, তাদের ভালোবাসা ও সমর্থন থাকলে আগামী পরিচালক ও অভিনেত্রীদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে।














