ঢাকা | মঙ্গলবার | ১৪ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৯শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

সুইজারল্যান্ডের ম্যাচে গোল মিসের পরে হামিন্তন কাম্পাসকে হত্যার হুমকি

বিশ্বকাপের এক মুহূর্তের ভুল কীভাবে খেলোয়াড়ের ওপর প্রাণহানির হুমকি তৈরী করে দিতে পারে—এর নতুন উদাহরণ দেখা গেছে কলম্বিয়ার উইঙ্গার হামিন্তন কাম্পাসের ঘটনায়। সুইজারল্যান্ডের বিরুদ্ধে শেষ ষোলোর ম্যাচে এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হাতছাড়া করার পর থেকে ২৬ বছর বয়সী কাম্পাসকে জীবননাশের হুমকির মুখে পড়তে হয়েছে এবং নিজ নিরাপত্তার কথা ভেবেই তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন।

অতিরিক্ত সময়ে একটি সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করার পর ম্যাচ শেষপর্যায়ে টাইব্রেকারে গিয়ে সুইজারল্যান্ড জয় অর্জন করে এবং কোর্টার ফাইনালে পৌঁছে—ফলে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় কলম্বিয়া। ওই মিস হওয়া সুযোগটিকে মুখ্য কারণ ধরে সাম্প্রতিক হুমকিগুলো চালানো হচ্ছে, যদিও কাম্পাস এবারের টুর্নামেন্টে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে একটি গোলও করেছিলেন।

ম্যাচের পর তিনি দলসহ বোগোতার উদ্দেশ্যে নির্ধারিত বিমানে উঠেননি এবং এরপর থেকেই তার অবস্থান নিয়ে নানা উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। আত্মগোপন অবস্থায় থেকেও তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি আবেগঘন বার্তা দেন, যেখানে ছোটবেলা থেকেই দেশের জার্সি গায়ে বিশ্বকাপে গোল করার স্বপ্ন দেখার কথা, সমর্থকদের খুশি করতে না পারার বেদনা এবং দেশের প্রতি তার নিষ্ঠা ও ভালোবাসার কোনো ঘাটতি ছিল না—এমন কথাই তিনি জানিয়েছেন।

এই ঘটনার পর কলম্বিয়ান ফুটবল ফেডারেশন পূর্বজোরে হুমকিদাতাদের নিন্দা করেছেন। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দেশের প্রতিনিধিত্ব করা কোনো খেলোয়াড় বা তার পরিবার কখনোই এই ধরনের হুমকির শিকার হওয়া উচিত নয় এবং তারা কাম্পাস ও তার পরিবারের পূর্ণ নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানিয়েছে।

কাম্পাসের ওপর এসে থাকা হুমকিগুলো কলম্বিয়ার ফুটবল ইতিহাসের একটি ভয়াবহ অধ্যায়কে স্মরণ করিয়েছে—১৯৯৪ বিশ্বকাপে নিজের গোলে দেশে ফিরে অমানবিক সহিংসতার শিকার হয়েছিলেন আন্দ্রেস এসকোবার। ওই স্মৃতি আবারও সামনে এসেছে এবং মন্ডলে সতর্কবার্তা জোরালো হয়েছে যে খেলাধুলাকে এমন হিংসাত্মক রূপে প্রভাবিত করা যাবে না।

বিশ্বকাপ ম্যাচের উত্তেজনা ও হতাশা স্বাভাবিক, কিন্তু খেলোয়াড়দের নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষা করাই প্রধান। এখন কর্তৃপক্ষ, ক্লাব ও ফেডারেশনের ওপর দায়িত্ব সুস্পষ্ট—কমেন্টারদের, সমর্থকদের ও স্থানীয় প্রশাসনের উচিত যত দ্রুত সম্ভব কাম্পাস ও তার পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সেসব হুমকির উৎস খুঁজে ব্যবস্থা নেওয়া।