ঢাকা | মঙ্গলবার | ১৪ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩০শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৯শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

খুজেস্তানে মার্কিন বিমান হামলা: অন্তত আটটি স্থানে বিস্তৃত ক্ষয়ক্ষতি

ইরানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় খুজেস্তান প্রদেশের অন্তত আটটি শহরে গত রাতে ধারাবাহিক বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র, জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা। বিষয়টি স্থানীয় অর্ধ-সরকারি সংবাদসংস্থা আইএসএনএর উদ্ধৃতি দিয়ে আল জাজিরা নিশ্চিত করেছে।

প্রদেশটির নিরাপত্তা ও আইনের সহকারী ডেপুটি গভর্নর ভালিওল্লাহ হায়াতি বলেন, গত কয়েক ঘণ্টায় খুজেস্তানজুড়ে কমপক্ষে আটটি স্থানে আক্রমণ চালানো হয়েছে। তিনি জানান, স্থানীয় সময় রাত সোয়া একটা থেকে দুইটা বিশ মিনিট পর্যন্ত দফায় দফায় এই আঘাতগুলো সংঘটিত হয়।

হায়াতি ক্ষয়ক্ষতির আনুমানিক হিসাব প্রস্তত করছে বলেও জানান। আহভাজ বিমানবন্দরের ওপর সরাসরি আঘাতের খবর তিনি প্রত্যাখ্যান করেছেন, তবে বিমানবন্দরের উপকণ্ঠে শহরের কাছে দুটি হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছেন। এছাড়া মাহশাহরের একটি কৃষি পানি পাম্পিং স্টেশনে ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতে একজন নিহত ও চারজন আহত হওয়ার খবর তিনি আগে জানিয়েছিলেন।

এই ঘটনায় উপসাগরীয় এলাকা তীব্র অস্থিরতার মধ্যে পড়েছে। বিশেষত হরমুজ প্রণালীকে ইরান আংশিকভাবে বন্ধ রাখায় বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্য বাড়ছে এবং তা বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির চাপ বাড়াচ্ছে। নভেম্বরে হতে যাওয়া নির্বাচনের আগে এই উত্তেজনা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্যও সমস্যার সৃষ্টি করছে বলে বিশ্লেষকরা দেখছেন।

ইরানের অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার কয়েকটি জাহাজ ‘অননুমোদিত পথে’ নৌপথ অতিক্রমের চেষ্টা করে। যথাযথ সতর্কবার্তা সত্ত্বেও গতিপথ না পরিবর্তন করায় হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বলেছে, এই অঞ্চলে মার্কিন হস্তক্ষেপ পুরোপুরি বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত প্রণালী বন্ধ রাখা হবে।

মার্স্তিয়ায় সংঘর্ষের স্রোত ধরলে দেখা যায়, শনিবারের আগে-পরে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছিল। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড দাবি করেছে, আইআরজিসির এক ঘোষণার প্রায় এক ঘণ্টা পর শনিবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টা১৫ মিনিটে তারা পাল্টা হামলা শুরু করে। তারা বলেছে, এই হামলা প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সরাসরি নির্দেশে পরিচালিত হয়েছে; তবে হোয়াইট হাউস তৎক্ষণাৎ কোনো মন্তব্য করেনি।

ঘটনার সঠিক অবস্থা ও সম্পূর্ণ ক্ষয়ক্ষতির তালিকা এখনও প্রান্তিক পর্যায়ে যাচাই করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন, আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও প্রতিপক্ষের বিবৃতি মিলিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ অব্যাহত আছে।