মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সঙ্গে থাকা যুদ্ধবিরতি চুক্তিটি কার্যত শেষ বলে ঘোষণা করার পর আন্তর্জাতিক তেলবাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম অনেকটাই বেড়ে গেছে। মঙ্গলবার নয়, বুধবার (৮ জুলাই) ট্রাম্পের স্পষ্ট ঘোষণার পর বাজারে ওই উত্থানটি লক্ষ করা যায়।
ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে যেই সমঝোতা ছিল তার দিন শেষ—তবে কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ রাখা হবে না; আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার সুযোগ রাখা হবে বলে তিনি যোগ করেন। এই ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গে বাজারে ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় দাবদাহ শুরু হয় এবং তেলের মূল্যে ব্যাপক ওঠানামা দেখা দেয়।
আন্তর্জাতিক বাণিজ্যিক জলপথ হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনাও উত্তেজনা বাড়িয়েছে। ওই হামলার পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে। সামরিক উত্তেজনার তীব্রতা বেড়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ব্রেন্ট ক্রুড কোম্পানির তেলের দাম ৬.৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি ব্যারেল দাঁড়ায় ৭৮.৮০ ডলার। একই সময়ে মার্কিন স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী অপরিশোধিত তেলের দাম ৬.৪ শতাংশ বাড়ে এবং প্রতি ব্যারেল পৌঁছে যায় ৭৫ ডলারে।
উল্লেখ্য, চলতি বছরের শেষভাগে ইরান-সংকট তীব্র হলে গত ফেব্রুয়ারির শেষের দিকে বিশ্ববাজারে তেলের দাম একসময় প্রতি ব্যারেলে ১০০ ডলারেরও উপরে উঠে গিয়েছিল। এরপর সাম্প্রতিক কিছু সপ্তাহে পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হওয়ায় মূল্য সামান্য নামতে শুরু করে এবং যুদ্ধ-আগের স্তরের কাছে ফিরে আসে। তবে ট্রাম্পের ঘোষণার ফলে নতুন করে অনিশ্চয়তা বাড়ায় বাজার আবারো ওঠানামুন শুরু করেছে।
অর্থনৈতিক ও জ্বালানি বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধবিরতি সম্পর্কিত অসময়ে ঘোষণাগুলো বাজারে দ্রুত প্রভাব ফেলে এবং সরবরাহ সংক্রান্ত উদ্বেগ বাড়লে দাম আরও ওঠার সম্ভাবনা থাকে। ফলে নিকট ভবিষ্যতে ভূ-রাজনৈতিক ঘটনার উপর দামের ওঠানামা নির্ভরশীল থাকবে।














