জাতীয় জাদুঘর প্রাঙ্গণে বিশ্বখ্যাত জাপানি স্থপতি তাদাও আন্দোর বিশেষ নকশায় একটি আধুনিক ও দৃষ্টিনন্দন শিশু গ্রন্থাগার—‘বাংলাদেশ চিলড্রেন লাইব্রেরি’ নির্মাণ করা হচ্ছে। মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরীর সচিবালয়স্থ অফিসে বাংলাদেশের জন্য নিযুক্ত জাপানের নবাগত রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এই প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠকে দুই পক্ষ শিশু গ্রন্থাগারের পরিকল্পনা, দ্রুত বাস্তবায়ন ও সহযোগিতার অনুকূল পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। মন্ত্রী স্মরণ করিয়ে দেন, ২০২৩ সালের ২৭ এপ্রিল স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারকের (এমওইউ) ভিত্তিতেই এই উদ্যোগটি নেওয়া হয়েছে এবং এ জন্য স্থপতি তাদাও আন্দো ও জাপান সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান।
মন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, এই বিশেষ গ্রন্থাগার হবে বাংলাদেশ ও জাপানের গভীর বন্ধুত্বের এক স্থায়ী প্রতীক এবং দেশের শিশুদের মেধা, মনন ও সৃজনশীলতা বিকাশে তা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে তিনি জাপান দূতাবাসের সক্রিয় সহযোগিতা কামনা করেন।
জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিনিচি বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য, লোকশিল্প ও চারুকলা নিয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষা ও প্রশংসা জানান। তিনি বাংলাদেশে আয়োজিত আন্তর্জাতিক এশিয়ান আর্ট বিয়েনালে (ভিডোন উল্লেখযোগ্য) জাপানের নিয়মিত ও গৌরবময় অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দেন।
প্রতিনিধি বৈঠকে সাংস্কৃতিক সম্পদ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ, জাদুঘরের আধুনিকায়ন, প্রত্নতাত্ত্বিক খনন ও বৈজ্ঞানিক সংরক্ষণ, সাংস্কৃতিক প্রতিনিধি দল ও শিল্পী বিনিময়, এবং গ্রন্থাগার ও আর্কাইভস খাতের প্রযুক্তিগত উন্নয়নে জাপানের সমগ্র সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বৈঠকের শুরুতে সংস্কৃতিমন্ত্রী নতুন রাষ্ট্রদূতকে বাংলাদেশে স্বাগত জানান এবং তাদের here সফল কর্মকাল কামনা করেন। মন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মহান স্বাধীনতার পর থেকে জাপান বাংলাদেশের এক বিশ্বস্ত ও প্রধান উন্নয়ন সহযোগী হিসেবে বিবেচিত—বিগত পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে দু’দেশের মধ্যে পারস্পরিক বিশ্বাস ও সৌহার্দ্য বাড়তে থাকে। তিনি বাংলাদেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নে জাপানের অবিচল সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা জানান।
এ সময় দু’দেশের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় সাংস্কৃতিক সম্পর্ক জোরদারকরণের প্রয়োজনীয়তা তোলা হয় এবং বর্তমান বাস্তবতার সঙ্গে খাপ খাইয়ে ২০০৫ সালের সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি যুগোপযোগী করে নবায়ন করার প্রস্তাব কূটনৈতিক চ্যানেলে যৌথভাবে কাজ করে বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
বৈঠকে সংস্কৃতি ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং ঢাকায় অবস্থানরত জাপান দূতাবাসের সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধি নিবিড়ভাবে অংশ নেন।














