ঢাকা | মঙ্গলবার | ৭ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২২শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে অনুরোধ: তুরস্ককে অত্যাধুনিক অস্ত্র দেবেন না

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছেন, তুরস্ককে অত্যাধুনিক সামরিক প্রযুক্তি বা যুদ্ধবিমান বিক্রি করা উচিত নয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, গত শুক্রবার ট্রাম্পের সঙ্গে এক ফোনালাপে নেতানিয়াহু এ উদ্বেগ জানান।

নেতানিয়াহু বিশেষ করে তুরস্ককে পুনরায় এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত করা বা শক্তিশালী ইঞ্জিন সরবরাহের ব্যাপারে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি মনে করেন, প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ানের ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্য ও মুসলিম ব্রাদারহুডের মতো আদর্শিক সমর্থনের প্রেক্ষাপটে এমন অস্ত্র হস্তান্তর মধ্যপ্রাচ্যে শক্তি ভারসাম্যকে নড়বড়ে করে দিতে পারে।

২০১৯ সালে তুরস্ক রাশিয়ার কাছ থেকে এস-৪০০ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কিনে নেওয়ায় ওয়াশিংটন আঙ্কারাকে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বিচ্ছিন্ন করেছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন প্রশাসন ইঙ্গিত দিয়েছে যে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ হলে সেক্ষেত্রে তুরস্ককে পুনরায় এফ-৩৫ বিক্রির বিষয়টি পেন্টাগন গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করছে — এই প্রেক্ষাপটেই নেতানিয়াহুর অনুরোধ বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে।

চলতি সপ্তাহে ন্যাটো সম্মেলন উপলক্ষে ট্রাম্পের তুরস্ক সফর এবং এরদোয়ানের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠক দুই নেতার মধ্যকার দুইপক্ষীয় আলোচনায় তুরস্ককে আবার কর্মসূচিতে ফিরিয়ে আনা বিষয়টি উঠে আসতে পারে বলে কূটনীতিকরা দেখছেন।

নেতানিয়াহু তাঁর উদ্বেগের ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেছেন এরদোয়ানের ইসরায়েলবিরোধী বক্তব্য এবং কিছু ক্ষেত্রে জায়নবাদকে ‘গণহত্যার মতাদর্শ’ হিসেবে আখ্যা দেয়ার ঘটনাগুলো। তাঁর কথায়, এমন একটি সরকারের হাতে অত্যাধুনিক মার্কিন সমরাস্ত্র দিলে তা ইসরায়েলের নিরাপত্তার জন্য দীর্ঘমেয়াদী হুমকি সৃষ্টি করতে পারে।

গত দুই বছরে গাজা যুদ্ধ ও ইরানের পরিস্থিতি নিয়ে আঙ্কারা ও তেল আবিবের সম্পর্ক তীব্রভাবে খারাপ হয়েছে। তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ইতিমধ্যেই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞা চাপানোর দাবি তুলেছেন। অন্যদিকে, পেন্টাগন ও হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য করেনি।

মধ্যপ্রাচ্যের জটিল কূটনৈতিক ও সামরিক পরিবেশের কারণে মার্কিন প্রশাসনের সামনে এ বিষয়ে ভারসাম্য খুঁজে বের করাটিই বড় একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে দাঁড়িয়েছে। ন্যাটো সম্মেলনে ট্রাম্প ও এরদোয়ানের সম্ভাব্য বৈঠক এ অঞ্চলের সামরিক নীতিতে নতুন করে প্রভাব ফেলতে পারে এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ এখন ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের দিকে অপেক্ষায় আছে।