ভেনেজুয়েলায় ২৪ জুনে আঘাত হানা পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেশজুড়ে তীব্র ধ্বংসযজ্ঞ হয়েছে; সরকারি তথ্য অনুযায়ী মৃতের সংখ্যা এখন ২,৯৫৪। খবর সংস্থা এএফপি জানিয়েছে, কেবল গত শুক্রবার থেকেই তালিকায় ৩০০-এর বেশি নতুন নাম যোগ হয়েছে।
জনজীবন বৈরাগ্যময় হয়ে উঠেছে যখন মাত্র ৩৮ সেকেন্ডের ব্যবধানে আঘাত হানে মাত্রা ৭.২ এবং ৭.৫-এর ওই দুটি ভূমিকম্প। এই প্রলয়ঙ্করী কেঁপে উঠায় বিস্তীর্ণ এলাকা ধসে পড়ে, বহু বহুতল ইমারত মালিকোমুক্ত হয়েছে এবং প্রচুর মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়েছে। দুর্যোগের তীব্রতার পর রাজধানী কারাকাসের কাছের উপকূলীয় অঞ্চল লা গুয়াইরায় ক্ষয়ক্ষতি সবচেয়ে বেশি — সেখানে বহু আবাসিক এলাকা ও বহুতল ভবন মালভূমিতে পরিণত হয়েছে।
ভূমিকম্পের পর জীবিত উদ্ধারকারীদের জন্য প্রচলিত ‘৭২ ঘণ্টার সোনালি সময়সীমা’ ইতোমধ্যেই পেরিয়ে গেছে; ফলে অনেক ক্ষেত্রেই উদ্ধারকর্মীরা এখন ধ্বংসস্তূপ থেকে মরদেহ উদ্ধারের কাজে বেশি ঝুঁকছেন। যদিও বিরল কিছুক ঘটনায় এখনও কয়েকজনকে জীবিত পাওয়া গেছে, আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলো ধীরে ধীরে তাদের অভিযান সীমিত করতে শুরু করেছে। দেশটির অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ বিদেশি উদ্ধারদলদের সম্মাননা দিয়েছেন এবং তাদের অবদানের কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্বীকার করেছেন।
ভূমিকম্পের তীব্রতায় বর্তমানে অন্তত ১০ হাজার মানুষ নিখোঁজ বলে ধারণা করা হচ্ছে; তবে জাতিসংঘ সতর্ক করে দিয়েছে এই সংখ্যাটি প্রায় ৫০ হাজার পর্যন্ত উঠতে পারে। তদুপরি জাতিসংঘের এক প্রারম্ভিক হিসাব অনুযায়ী, এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে ভেনেজুয়েলার আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৬.৭ বিলিয়ন ডলার—সংকটগ্রস্ত এ অর্থব্যবস্থার জন্য এটা দেশের মোট জিডিপির প্রায় ৬ শতাংশের সমপরিমাণ ক্ষতি। তেলরপ্তানিনির্ভর ও দীর্ঘদিন ধরে রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তায় যtranet ভুগছে এ দেশ, ফলে 이번 আঘাত আরেকটু মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।
অভিযান-উদ্ধারে স্থানীয় মানুষদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তরা অভিযোগ করেছেন, সংকট মুহূর্তে সরকারি প্রতিক্রিয়া ছিল ধীর ও অপ্রতুল; অনেক পরিবারই নিজেদের প্রিয়জনকে খালি হাতে উদ্ধারের লড়াইয়ে নামে। সরকারের তরফে বলা হয়েছে, শুরু থেকেই হাজার হাজার সেনা ও উদ্ধারকর্মী মাঠে কাজ করছে এবং লা গুয়াইরায় এখন ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে ধসে পড়া ভবন অপসারণের কাজ চলছে। তবু অনেক পরিবার এখনও তাদের নিখোঁজ বা নিহত আত্মীয়দের সন্ধানে দিনযাপন করছেন।
দুর্যোগের পর মাইয়াকেতিয়া (মাইকেরেটিয়া) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরকে আংশিকভাবে মানবিক সহায়তা বহনকারী ফ্লাইটের জন্য খুলে দেয়া হয়েছে, কিন্তু বাকি বেসামরিক বিমানচলাচল সীমিত রয়েছে। হাজার হাজার গৃহহীন মানুষ অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে দিনাতিপাত করছেন এবং দেশ-বিদেশে সাহায্যর আবেদন জানাচ্ছেন।
নির্মাণ কাজ, দেরিতে পৌঁছে যাওয়া সরঞ্জাম ও মানবিক সহায়তা দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলে স্থিতিশীলতা আনা সহজ হবে না; বিশেষ করে তেলভিত্তিক অর্থনীতির দীর্ঘ ক্রান্তিকালে থাকা ভেনেজুয়েলার জন্য পুনর্গঠন বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াচ্ছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তা দ্রুত ও সমন্বিতভাবে না এলে মানুষের কষ্ট অনেক দিন বাড়তেই পারে।














