ঢাকা | রবিবার | ৫ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২১শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২০শে মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

বিশ্ববাজারে দুগ্ধজাত পণ্যের মূল্যসূচকে বড় ধস

বিশ্ববাজারে দুগ্ধজাত পণ্যের দাম আবারও বড়ভাবে কমেছে। গ্লোবাল ডেইরি ট্রেড (জিডিটি) ইনডেক্সের সর্বশেষ নিলামে মূল্যসূচক ২.৮ শতাংশ হ্রাস পেয়ে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাওয়া সাময়িক ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতাকে থামিয়ে দিয়েছে। নতুন বাণিজ্য মৌসুমের শুরুতেই টানা দ্বিতীয়বারের এই দরপতন বিশ্বব্যাপী চাহিদা ও বাজার স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।

এগ্রিল্যান্ড ও দ্য নিউজিল্যান্ড হেরাল্ডের তথ্য অনুযায়ী, ৪০৬তম অনলাইন নিলামে ১৫১ জন আন্তর্জাতিক ক্রেতা অংশ নিলেও মোট ১২,৯২২ টন দুগ্ধজাত পণ্য বিক্রি হয়েছে, যা আগের নিলামের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম।

পণ্যের আলাদা বিশ্লেষণে দেখা গেছে, নন-ফ্যাট শুকনো গুঁড়া দুধ (ডব্লিউএমপি) ৩.১ শতাংশ বেড়ে প্রতিটন দাম দাঁড়িয়েছে ৩,৫৮৯ ডলার—এখানে মূলত দাম হ্রাস হয়েছে। আর নন-ফ্যাট সোলিড (এসএমপি) ৩.৬ শতাংশ কমে ৩,৩৬৮ ডলারে নেমে এসেছে। চিজে বড় ধরনের দরপতন লক্ষ্য করা গেছে; মোজারেলা চিজের দাম এক ধাক্কায় ৫ শতাংশ ও চেডার চিজের দাম ৩.৪ শতাংশ কমেছে। মাখনের গড় মূল্য ২.৪ শতাংশ হ্রাস পেয়ে এবং অ্যানহাইড্রাস মিল্ক ফ্যাট (এএমএফ) বা বিশুদ্ধ দুগ্ধজাত চর্বির দাম ১ শতাংশ কমে প্রতিটন ৬,৬০১ ডলারে অবস্থান করছে।

তবে ল্যাকটোজের বাজারে ব্যতিক্রম দেখা গেছে — এটির দাম ৪.২ শতাংশ বাড়ে প্রতিটন ১,৭০২ ডলারে উঠে আসে।

ইউরোপীয় ডেইরি সমবায় সংস্থা অরনুয়ার সাম্প্রতিক বাজার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে বিশ্ববাজারে দুধ সরবরাহ ও ভবিষ্যত চাহিদা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বড় ধরনের দাম বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম। এই টানা দরপতন অব্যাহত থাকলে বিশ্বজুড়ে দুগ্ধ উৎপাদনকারী খামারি ও রপ্তানিকারকদের আয় লক্ষ্যমাত্রা অর্জন কঠিন হয়ে পড়তে পারে।