বন্দরনগরী চট্টগ্রামে প্রখ্যাত নাট্যকার ও শিক্ষাবিদ জিয়া হায়দারের স্মৃতি ও কর্মকে উৎসর্গ করে আজ থেকে শুরু হচ্ছে তিন দিনব্যাপী নাট্যমেলা। সোমবার (২৯ জুন, ২০২৬) বিকেল ৫টা থেকে চট্টগ্রাম জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে খোলা হবে মেলার কোটির পর্দা, যা চলবে ১ জুলাই পর্যন্ত। ’আগামীর মঞ্চ: জিয়া হায়দার নাট্যমেলা ২০২৬’ শিরোনামে এই আয়োজন করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগ। প্রতিদিন বিকেল ৫টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত নাট্যপ্রেমী দর্শকদের জন্য মেলার দরজা খোলা থাকবে।
আয়োজক কমিটি জানায়, তরুণ নাট্যকর্মীদের সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করা, প্রাতিষ্ঠানিক ও গবেষণাভিত্তিক নাট্যচর্চাকে জনসমক্ষে পরিচিত করা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের নতুন ক্ষেত্র তৈরি করাই মেলার মূল উদ্দেশ্য। তাই শুধুই মূল মঞ্চ নয়—এই মেলায় পুতুলনাট্য, তথ্যচিত্র ও নাটকের পোস্টার, সেট ও পোশাক প্রদর্শনীসহ নানা ধাঁচের বৈচিত্র্যময় কার্যক্রমও রাখা হয়েছে। মেলার একটি বিশেষ দিক হলো, মঞ্চস্থ প্রতিটি নাটকের সামগ্রিক নির্দেশনা দিয়েছেন চবি নাট্যকলা বিভাগের তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের প্রতিভাবান শিক্ষার্থীরা।
মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠিত হবে। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (একাডেমিক) অধ্যাপক মোহাম্মদ আল-আমিন, আর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ঘোষণা করবেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক মো. শফিকুল ইসলাম। উদ্বোধন অনুষ্ঠান শেষে সন্ধ্যা ৬টায় মঞ্চস্থ হবে জিয়া হায়দার রচিত এবং ঋজু লক্ষ্মী অবরোধের নব-নাট্যরূপে নির্মিত ‘উম্মাদ সাক্ষাৎকার’। একই দিন রাত ৮টায় দর্শক দেখতে পাবেন সাঈদ আহমদের নাটক ‘তৃষ্ণায়’।
এমনকি মেলার দ্বিতীয় দিন, ৩০ জুন, সন্ধ্যা ৬টায় মঞ্চে উঠবে জিয়া হায়দারের আরেকটি পরিচিত সৃষ্টি ‘শুভ্র সুন্দর কল্যাণী আনন্দ’ এবং রাত ৮টায় পরিবেশিত হবে ইয়ারোস্লাভা পুলিনোভিচ রচিত ও সনজিত কুমার দে’র নব-নাট্যরূপে মঞ্চিত ‘আকাশ কেন ডাকে’। মেলার সমাপনী দিন ১ জুলাই সন্ধ্যা ৬টায় দর্শক উপভোগ করবেন আন্তন চেখভের কালজয়ী নাটক ‘দ্য বিয়ার’ এবং রাত ৮টায় মঞ্চে উঠবে নিকোলা এরডম্যান রচিত ‘দ্য সুইসাইড’—এই নাট্যদিবসের মধ্যেই শেষ হবে তিনদিনের এই রঙিন উৎসব।
নাট্যমেলার প্রতিটি দিন নানা আলোচনা, পর্যবেক্ষণ ও নতুন সাহসিকতার সাক্ষী হবে—বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের নির্দেশক ও অভিনেতাদের কাজ উপভোগ করে দর্শকরা ভবিষ্যৎ মঞ্চপ্রবর্তকদের সম্ভাবনা পড়ে দেখতে পারবেন। চট্টগ্রামের নাট্যপ্রেমীরা আশা করছেন, এই উৎসব শহরের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে নতুন জেগে ওঠার সূচনা হবে।














