সরকার রাজধানীর কড়াইল বস্তিসহ দেশের ৫৮টি এলাকায় দরিদ্র ও স্বল্পআয়ীদের জন্য মোট এক লাখ সাশ্রয়ী ফ্ল্যাট নির্মাণ করবে—এমন পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) প্রণীত ডিটেইল এ্যারিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) অনুযায়ী প্রকল্পের জন্য স্থান নির্ধারণের কাজ ইতোমধ্যেই শেষ হয়েছে। রোববার (২৮ জুন) জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানার প্রশ্নের জবাবে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের এই তথ্য জানিয়ে পরিকল্পনার অগ্রগতির খুঁটিনাটি তুলে ধরেন।
মন্ত্রী জানান, গাজীপুরের টঙ্গীর দত্তপাড়ায় জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষের ৯৮ একর জমিতে এবং দেশের রাজশাহী, দিনাজপুর, বরিশাল, খুলনা, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ ও নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন পৌর এলাকার মোট ৩৭টি বস্তিতে স্বল্পআয়ের মানুষের জন্য উন্নত আবাসন নিশ্চিত করতে প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এছাড়া রাজশাহী, খুলনা ও চট্টগ্রামে ‘চউকের’ জমিতে ভাড়াভিত্তিক ও সাশ্রয়ী আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনাও আছে।
একই অধিবেশনে সমাজকল্যাণ মন্ত্রী আবু জাফর মো. জাহিদ হোসেন জানিয়েছেন, পিতা-মাতার ভরণপোষণ আইন, ২০১৩-এর শাস্তির মেয়াদ, জরিমানা এবং কারাদণ্ড সংক্রান্ত ধারা সংশোধনের বিষয়ে স্টেকহোল্ডারদের মতামত নিয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত বদল আনা হবে। এই তথ্য সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নাজমুন নাহারর প্রশ্নের জবাবে আইনের সংশোধনের পরিকল্পনা হিসেবে জানানো হয়।
মন্ত্রী আরো বলেন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ভাতা বিতরণে অতীতে রাজনৈতিক প্রভাব ও অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। এসব অনিয়ম মেটাতে সারাদেশে প্রকৃত দুস্থদের তালিকা তৈরি ও ভুয়া সুবিধাভোগীদের বাদ দিতে একটি শুদ্ধি অভিযান এবং ডাটাবেজ যাচাই-বাছাইয়ের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এই কাজে গত ১৯ এপ্রিল একটি পুনঃযাচাই-বাছাই কমিটিও গঠন করা হয়েছে। (নওগাঁ-৩ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হুদার প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য দেওয়া হয়।)
ভাতা বৃদ্ধির বিষয়ে মন্ত্রী জানান, দেশের প্রবীণ জনসংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। চলতি অর্থবছর ২০২৫-২৬ সালে ৬১ লাখ উপকারভোগী প্রত্যেকে মাসিক ৬৫০ টাকা ভাতা পাচ্ছেন; এর জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৪৭৯১ কোটি ৩১ হাজার টাকা। আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ভাতা বাড়িয়ে ৭০০ টাকা করার প্রস্তাব করা হয়েছে, যখন উপকারভোগীর সংখ্যা হবে ৬২ লাখ এবং বরাদ্দ ধরা হয়েছে ৫২৩৯ কোটি ২৫ লাখ টাকা। (এমন তথ্য ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য জয়নাল আবদিনের প্রশ্নের জবাবে উঠে আসে।)
এছাড়া গাজীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য এস এম রফিকুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানালেন, আগামী অর্থবছরে ৩০ লাখ বিধবা ও স্বামী নিগৃহীত নারীকে ৭০০ টাকা করে মাসিক ভাতা দেয়ার প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রতিবন্ধী ভাতা ৯০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০০০ টাকা করার পরিকল্পনাও রয়েছে; যার ফলে প্রায় ৩৮ লাখ উপকারভোগীর জন্য মোট ৪৫৮৭ কোটি ৩৬ লাখ টাকা বরাদ্দ রাখা হবে।
স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য মোহাম্মদ সালমান ওমরের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী আরও জানান, দেশের ৪৪টি জেলার ৫৫টি উপজেলায় পাইলট হিসেবে তিনটি পর্যায়ে মোট ৬৯,৩৮৭ জন নারী প্রধানের নামে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ভাতা ইতোমধ্যেই বিতরণ করা হয়েছে।
সারমর্মে, সরকার housing ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বৃহত্তর রোস্টার-ভিত্তিক সংস্কার, ভাতা বাড়ানো এবং দরিদ্রদের জন্য স্থায়ী আবাসন নিশ্চিত করতে বেশ কিছু উদ্যোগ হাতে নিয়েছে—যা বাস্তবায়নে আরও নীতিগত সমন্বয় ও যাচাইয়ের কাজ অব্যাহত থাকবে।














