ঢাকা | সোমবার | ২৯শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৪ই মহর্‌রম, ১৪৪৮ হিজরি

আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপ পয়েন্ট টেবিলে চারে উঠে বাংলাদেশ

অস্ট্রেলিয়ার কাছে টি-টোয়েন্টি সিরিজ হোয়াইটওয়াশ হওয়ার দুঃসাহসিক পরিক্রমার মাঝেই আন্তর্জাতিক টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে ভালো সংবাদ পেলো বাংলাদেশ। জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে হারারেতে ঘরের মাঠে ব্যাটিংয়ে ধস নামলেও, অ্যান্টিগায় শ্রীলঙ্কা ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মুখোমুখি টেস্টের ফল বাংলাদেশের পক্ষে নাটকীয় সুবিধা এনে দিয়েছে।

অ্যান্টিগায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে ওয়েস্ট ইন্ডিজ শ্রীলঙ্কাকে ইনিংস ও ২১৭ রানে হারিয়ে দিয়েছে। ওই জয়ের ফলে শ্রীলঙ্কা টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের পয়েন্ট টেবিলে তিন থেকে ছয় নম্বরে নিচে নেমে এসেছে এবং তাদের সফলতার হার দাঁড়িয়েছে 44.44 শতাংশে। শ্রীলঙ্কার পতনের সুযোগ কাজে লাগিয়ে কোনো ম্যাচ না খেলেই বাংলাদেশ এবার টেবিলের চার নম্বরে উঠে এসেছে — তাদের সফলতার হার এখন 58.33 শতাংশ। একই সঙ্গে ভারতও এই ফলের সুবিধা পেয়েছে এবং সফলতার হার 48.15 শতাংশ নিয়ে টেবিলে পাঁচ নম্বরে ওঠে গেছে। টেবিলের শীর্ষে এখন 87.50 শতাংশ সফলতার হার নিয়ে অস্ট্রেলিয়া অবস্থান করছে।

তবে বাংলাদেশের জন্য খুশির এই খবরটি আসে এমন এক দিনে, যখন হারারে টেস্টের প্রথম দিনে তাদের ব্যাটিং চিত্র ছিল অত্যন্ত হতাশাজনক। টস হেরে আগে ব্যাট করতে নেমে প্রথমে ২ উইকেটে ১১৩ রান করে শক্ত অবস্থান তৈরি করলেও এরপর অসাধারণ ধস হয়—শেষ ৮ উইকেটে মাত্র ২৭ রান যোগ করে বাংলাদেশ প্রথম ইনিংসে মাত্র ১৪০ রানে অলআউট হয়। জবাবে জিম্বাবুয়ে প্রথম দিনেই ১ উইকেটে ১৩৬ রান সংগ্রহ করে মাঠে চাপ সৃষ্টি করে রেখেছে।

দলের সেরা এই দিনে ছিলেন সাবেক অধিনায়ক মুমিনুল হক, তিনি ৬০ রান করেন। ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে মুমিনুল হতাশা ব্যক্ত করে বলেন, হারারের উইকেটটি অতটা কঠিন হয়নি, জিম্বাবুয়ের বোলিং অবশ্য ভালোই ছিল, কিন্তু ‘‘আমরা নিজেদের উইকেট প্রতিপক্ষকে উপহার দিয়ে ফেলেছি। পরিকল্পনা কাজে লাগাতে ব্যর্থ হয়েছি।’’

উল্লেখ্য, চলমান বাংলাদেশ-জিম্বাবুয়ে টেস্ট ম্যাচটি আইসিসি টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের ওই চক্রের অংশ নয়, কারণ এই টুর্নামেন্টে জিম্বাবুয়ে নেই। তবু বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপে শ্রীলঙ্কার বড় হার ও বাংলাদেশর তুলনামূলক সফলতার ফলে এই অপ্রত্যাশিত সান্ত্বনা এসেছে।

মোটকথা, মাঠে হতাশাজনক পারফরম্যান্সের মাঝেই পয়েন্ট টেবিলে উঠা হবে পরবর্তী কিছুদিনের মধ্যে দলের morale/আত্মবিশ্বাস বাড়াতে কাজ করবে—তবে সবচেয়ে জরুরি হচ্ছে ব্যাটিং আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনা এবং ধারাবাহিক ভালো ইনিংস তুলে ধরা।