ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচিকে নিয়ে সম্ভাব্য যুক্তরাষ্ট্র-চুক্তি নিয়ে ক্ষোভে সারা দেশে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। গত শনিবার রাতে মার্কিনিদের সঙ্গে সমঝোতা নিয়ে টেলিভিশনে একটি সাক্ষাতকারে কথা বলার পরই মাশহাদ ও তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সামনে তার বিরুদ্ধে মানুষ রাস্তায় নেমে পড়েন।
বার্তা সংস্থা ফার্স নিউজে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কালো চাদর পরা এক নারী জোরে স্লোগান দেন, ‘অনুপ্রবেশকারী বেঈমান আরাগচির মৃত্যু হোক’। তিনি হাতে কালো ও লাল পতাকা উড়িয়ে অবস্থান নেন। ভিডিওতে শহরের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভকারীদের ভিড়ও দেখা গেছে।
বিক্ষোভকারীরা অভিযোগ করছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যে শর্তে চুক্তি হতে পারে তা ইরানের স্বার্থের বিরোধী। তাদের দাবি, এই চুক্তি হলে হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণও খোয়া যেতে পারে এবং ইরানের স্বার্থের জন্য প্রয়োজনীয় ছাড় দেয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিকমাধ্যমে দাবি করেছেন যে চুক্তি রোববারই স্বাক্ষরিত হবে এবং বাস্তবায়িত হলে হরমুজ প্রণালী দিয়ে সব ধরনের চলাচল বাধাহীন হবে। ট্রাম্পের এই ঘোষণার প্রতিবাদে অনেকে রাস্তায় নেমে খোলা আকারে বিরোধী স্লোগান দিচ্ছেন। রাজধানী তেহরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এলাকায় জমায়েত হয়ে তারা সরকারের কয়েকজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে কণ্ঠ উচ্ছে দিয়েছেন, বিশেষ করে আরাগচিকে লক্ষ্য করে অভিযোগ করেন অনেকে।
এক সিনিয়র কূটনীতিক ইসমাঈল বাঘাই জানিয়েছেন, رسمیভাবে এখনো চুক্তি স্থাপনের কোনো চূড়ান্ত ঘোষণা হয়নি। তিনি বলেন, রোববার স্বাক্ষরের কোনো নিশ্চিত পরিকল্পনা নেই, তবে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে। একদিকে মার্কিন-মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফও আলোচনার বিষয়ে ইতিবাচক মন্তব্য করেছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া যায়।
সামাজিকমাধ্যমে ছড়ানো ভিডিও ও ছবিতে হাজারো মানুষ রাস্তায় নামা এবং প্রতিবাদ প্রদর্শনের চিত্র দেখা গেছে। পরিস্থিতি তীব্র হওয়ায় সরকারি মহল ও স্থানীয় নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, আর গ্রামের থেকে শহর পর্যন্ত নানা স্তরের মানুষ চুক্তির সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে উদ্বিগ্ন।













