ঢাকা | রবিবার | ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৮শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

টরন্টোতে বিক্ষোভ: ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে নিষিদ্ধের দাবি

যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার তিন দেশের মিলিত আয়োজনে অনুষ্ঠিতব্য ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে ঘিরে ফিফার বিরুদ্ধে সমালোচনার মাত্রা তীব্র হয়েছে। টরন্টোর একটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেডিয়ামের বাইরে, কানাডার উদ্বোধনী ম্যাচের আগেই বিক্ষোভকারীরা ফিফা ও ইসরায়েলের সম্পর্ক নিন্দা করে গর্বভরা প্রতিবাদ করে।

গার্ডিনার এক্সপ্রেসওয়ের পাশে বিশ্বকাপের আনুষ্ঠানিক লোগো ঢেকে দিয়ে বিক্ষোভকারীরা একটি বিশাল ব্যানার ঝুলিয়ে দেন, যাতে লেখা ছিল ‘ফিফা থেকে ইসরায়েলকে বের করে দাও’। তারা দাবি করেন, ফিফা ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে যথাযথ ও দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

বিক্ষোভকারীদের মুখপাত্র ফয়সাল ইব্রাহিম বলেন, ইসরায়েলের ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে নির্যাতন ও নৃশংসতার বিরুদ্ধে ফিফা নীরব থাকার ফলে আন্তর্জাতিক ক্রীড়ার নৈতিকতা প্রশ্নের মুখে পড়েছে। তিনি আরো অভিযোগ করেন, ইসরায়েলি ক্লাবসমূহ অবৈধভাবে দখল করা পশ্চিম তীর ও সিরিয়ার কিছু এলাকায় নিয়মিত ম্যাচ আয়োজন করে এবং ফিফা সেই কার্যক্রমকে লক্ষ্য করে কোনো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেয়নি; বরং কিছু ক্ষেত্রে সেসব ম্যাচ সম্প্রচারও করা হয়েছে বলে তারা মনে করেন।

বিক্ষোভকারীদের আরও একটি দাবি ছিল ২০২৪ সালের শেষভাগে গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী কর্তৃক আটক হওয়া খ্যাতনামা ফিলিস্তিনি চিকিৎসক হুসাম আবু সাফিয়ার দ্রুত ও নীরবতা ভেঙে মুক্তি দেওয়া।

এ প্রসঙ্গে, গত মার্চে ফিফা জানিয়েছিল তারা পশ্চিম তীরের ওপর আন্তর্জাতিক আইনি অনিশ্চয়তা উল্লেখ করে ইসরায়েলি ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবে না। ওই সিদ্ধান্তের পর থেকেই ফুটবলপ্রেমী ও মানবাধিকার সংগঠনগুলো ফিফার প্রতি আরও ক্ষুব্ধ হয়েছে।

অक्टোবরে গাজার ওপর ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের পর থেকে সেখানে প্রাণহানি ও মানবিক সংকটের সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে; বিভিন্ন রিপোর্ট অনুযায়ী হাজার হাজার লোক নিহত ও ব্যাপক দুর্ভিক্ষ ও মানবিক বিপর্যয় চলছে। কিছু জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞ ফিফা ও উয়েফার কাছে অনুরোধ করেছেন ইসরায়েলকে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন করার জন্য।

এই পরিস্থিতিতে টরন্টোর রাস্তায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ ফিফার ওপর নতুন আন্তর্জাতিক চাপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে — বিশ্বকাপের মঞ্চকে ঘিরে এখন ক্রীড়ােক্ষেত্রে নৈতিকতা ও মানবাধিকার বিষয়ে ওঠা সমালোচনাগুলো আরও জোরালোভাবে উঠে এসেছে।