ঢাকা | রবিবার | ১৪ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৮শে জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

শিল্পকলা একাডেমির বিশেষ সম্মাননায় কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদী

অর্ধশতাব্দীরও বেশি সময় ধরে বাংলা সংগীতকে অনবদ্য কণ্ঠমাধুর্য ও শিল্পনিষ্ঠায় সমৃদ্ধ করে যাওয়া কিংবদন্তি কণ্ঠশিল্পী সৈয়দ আব্দুল হাদীকে বিশেষ সম্মাননা দিয়েছে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি। শুক্রবার (১২ জুন) রাজধানীর জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে আয়োজিত জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে জাতীয় সংস্কৃতির বিকাশে তাঁর অসামান্য অবদান এখানকার শিল্প-সংস্কৃতি মহলে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।

অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে শিল্পীর জীবন ও কর্মকথা তুলে ধরা একটি তথ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। এরপর আনুষ্ঠানিকভাবে তাঁর হাতে সম্মাননা স্মারক তুলে দেয়া হয়। সম্মাননা বিতরণী পর্বে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাননীয় প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম এমপি এবং তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় ও সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পলিসি ও স্ট্র্যাটেজি বিষয়ক মাননীয় উপদেষ্টা (প্রতিমন্ত্রীর মর্যাদা) ডাঃ জাহেদ উর রহমান বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। জাতীয়তাবাদী সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংস্থা (জাসাস)-এর আহ্বায়ক হেলাল খানও আনন্দিদ অতিথি ছিলেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। স্বাগত বক্তব্য দেন বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক ও কবি শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ, ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন।

আলোচনা পর্বে মহাপরিচালক শেখ রেজাউদ্দিন আহমেদ বাংলা সংগীতে সৈয়দ আব্দুল হাদীর অনন্য অবদানের কথা স্মরণ করে বলেন, বাংলা গানের মানদণ্ড ও মর্যাদা অনেকাংশেই তাঁর কণ্ঠস্বরের কারণে নির্ণীত হয়ে এসেছে। অনুষ্ঠানে বক্তারা তার সঙ্গীতধারা ও প্রজন্মগত প্রভাবের প্রশংসা করেন এবং তরুণ শিল্পীদের অনুপ্রেরণার উৎস হিসেবে তাঁর কাজকে উল্লেখ করেন। সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম সংস্কৃতি অঙ্গনকে নতুন করে গড়ে তোলার যে প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন, তা নিয়েও উল্লেখযোগ্য মন্তব্য করেন।

সম্মাননা গ্রহণের সময় নিজ অনুভূতি প্রকাশ করে সৈয়দ আব্দুল হাদী সকলের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। তিনি দেশপ্রেমের ওপর জোর দিয়ে বলেন, ‘‘আমরা যেন ব্যক্তিগত প্রত্যাশার ভারে দেশকে দমন না করি’’—এমন এক অনুরোধও করেন তিনি।

সন্ধ্যা ৭টায় অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে আয়োজন করা হয় বিশেষ গীতসন্ধ্যা, যেখানে শিল্পীর স্মৃতিচারণের পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের একঝাঁক প্রতিভাবান কণ্ঠশিল্পী তার জনপ্রিয় গানগুলো পরিবেশন করেন। একক ও যুগল পরিবেশনায় অংশ নেন আবদুল্লাহ হেল রাফি তালুকদার, স্মরণ, নোলক বাবু, অনন্যা আচার্য, পিয়াল হাসান, নুজহাত সাবিহা পুষ্পিতা, অপু আমান, সোহানুর রহমান, স্বরলিপি, রাশেদ, রাকা পপি, আজিজুল বারি (সিপু), মুহাম্মদ আনিসুর রহমান ও আতিক।

অনুষ্ঠানের সমাপ্তিতে সকল শিল্পীকে নিয়ে শিল্পীর দুটি কালজয়ী গান ‘‘আছেন আমার মোক্তার’’ এবং ‘‘সূর্যোদয়ে তুমি, সূর্যাস্তেও তুমি’’ একসঙ্গে পরিবেশন করে গীতসন্ধ্যাটি একটি আবেগঘন ও বিশদ শ্রদ্ধাঞ্জলির আবহে শেষ হয়। অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারীরা ও দর্শকরা বিশিষ্ট শিল্পীর শিল্পীজীবন ও সাংস্কৃতিক অবদানের স্মরণে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করে।