রাজধানীর বাংলাদেশ মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে শনিবার জাঁকজমকভাবে মঞ্চস্থ হলো নাট্যদল বটতলার শিশু বিভাগের নতুন প্রযোজনা ‘ডাকাত হালুম চিৎপটাং’। এটি ছিল শিশুদের অভিনয়ের বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ কোর্স ‘অভিনয়ে হাতেখড়ি’—এর ষষ্ঠ ব্যাচের সমাপনী প্রদর্শনী। চার মাসের নিবিড় প্রশিক্ষণ ও পরবর্তী কয়েক মাসের মহড়া শেষে একঝাঁক প্রাণবন্ত শিশু শিল্পী মঞ্চে উঠে তাদের প্রতিভা উজ্জ্বল করে দেখান, যার জন্য দর্শককূলের প্রশংসা কুড়ায় তারা।
নাটকটি প্রস্তুত করা হয়েছে জার্মান শিশু সাহিত্যিক ওটফ্রিদ প্রুশলারের কালজয়ী রচনা ‘ডাকাত হটজেনপ্লটজ’ থেকে অভিজাতভাবে অনুবর্তিত হয়ে। দেশের প্রেক্ষাপটে ‘ডাকাত হালুম চিৎপটাং’ শিরোনামে এর সুমিষ্ট নাট্যরূপ দিয়েছেন শাম্মি আক্তার, এবং নির্দেশনায় ছিলেন নাট্যব্যক্তিত্ব হুমায়ূন আজম রেওয়াজ। শিশু শিল্পীদের সহজাত অভিনয় ও শৈল্পিক দক্ষতা দিয়ে গল্পের রঙ্গিন ও হাস্যরসাত্মক দিকগুলো সুচারুভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, সেটি কেবল বিনোদনই নয়—শিশুদের মানসিক ও সৃজনশীল বিকাশের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখে এই ধরনের প্রযোজনা।
সফল প্রদর্শনীর শেষে অংশগ্রহণকারী শিশুদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে সনদপত্র ও বিশেষ উপহার বিতরণ করা হয়। অনুষ্ঠানে অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের অষ্টম এভারেস্ট বিজয়ী নুরুন্নাহার নিম্মি, আয়রনম্যান মোহাম্মদ শামসুজ্জামান আরাফাত, লেখক ও গবেষক সামীও শীশ এবং কবি সাকিরা পারভীন সুমা। বটতলার প্রতিষ্ঠাতা সদস্য মিজানুর রহমান ও পরিচালনা পর্ষদের সদস্য শিল্পী লায়েকা বশীরও শিশুদের উৎসাহ দিতে মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন। অতিথিরা শিশুদের নিয়মিত সৃজনশীল চর্চাকে প্রশংসা জানিয়ে তাদের ভবিষ্যৎ কর্মের জন্য শুভেচ্ছা জানান।
বটতলা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছেন, ‘ডাকাত হালুম চিৎপটাং’ প্রযোজনায় তারা ভবিষ্যতেও বিভিন্ন মঞ্চে নিয়মিতভাবে পরিবেশনার পরিকল্পনা করছে। শিশুদের মধ্যে থিয়েটারচর্চার স্বতন্ত্র ও শৈল্পিক পরিবেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যেই তাদের বিশেষায়িত স্কুল ‘এক্টরস স্টুডিও’ এই কর্মশালা পরিচালনা করে আসছে। এর আগেও ‘অভিনয়ে হাতেখড়ি’ শাখার তত্ত্বাবধানে বটতলা সফলভাবে ‘গুপীবাঘা’, ‘গালিভারস ট্রাভেলস’, ‘আমরা সবাই রাজা’, ‘হ্যামিলনের বাঁশিওয়ালা’ ও ‘ফাংসাং’ এর মতো জনপ্রিয় শিশুতোষ নাটক মঞ্চে এনেছে।
দীর্ঘ প্রায় ছয় মাসের প্রশিক্ষণ ও প্রস্তুতির ফসল হিসেবে এ মঞ্চায়নকে নতুন প্রজন্মের শৈল্পিক ও সাংস্কৃতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। অভিভাবকদের স্নেহমিশ্রিত উপস্থিতি ও শিশুদের সাবলীল পরিবেশনা পুরো মিলনায়তনকে উৎসবমুখর করে তুলেছিল। বিশিষ্টজনেরা আশা প্রকাশ করেছেন যে বটতলার এই নিয়মিত ও গুরুত্বপূর্ন উদ্যোগ ভবিষ্যতে দেশের নাট্যাঙ্গনে আরও দক্ষ ও সংবেদনশীল শিল্পী উপহার দেবে। নাট্যদলটি প্রতিশ্রুতি দিয়েছে, শিশুদের মেধা ও মনন বিকাশে এমন আয়োজন অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাবে।














