যুক্তরাষ্ট্র জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদন হওয়া পণ্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া না হওয়া উল্লেখ করে বাংলাদেশসহ মোট ৬০ দেশের ওপর নতুন অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, এসব দেশের আমদানি পণ্যের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে ১২.৫ শতাংশ পর্যন্ত ধার্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির কার্যালয় (ইউএসটিআর) জানিয়েছে, তারা কয়েক মাস ধরে জোরপূর্বক শ্রম সংক্রান্ত তদন্ত চালাচ্ছে এবং ওই তদন্তে ৫৪টি দেশকে ‘‘নিষেধাজ্ঞা আরোপ ও তা কার্যকরভাবে প্রয়োগে ব্যর্থ’’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই প্রস্তাব উঠে এসেছে সেই তদন্তের ভিত্তিতে।
ইউএসটিআর জানিয়েছে, কানাডা, ইকুয়েডর, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ইন্দোনেশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, আর্জেন্টিনা, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, মালয়েশিয়া, তাইওয়ান ও যুক্তরাজ্য—এসব দেশের আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা হয়েছে। অপরদিকে ভারত, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, ব্রাজিল, সুইজারল্যান্ডসহ অন্তত আরও ৪৫টি দেশের পণ্যের ওপর ১২.৫ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের প্রস্তাব রাখা হয়েছে। প্রস্তাব কার্যকর হলে কিছু দেশের ওপর আরোপিত শুল্কের হার অন্যদের চেয়ে বেশি হবে।
কেন্দ্রীয় যুক্তি হচ্ছে, জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য আমদানি করে তা মার্কিন বাণিজ্যকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং এসব দেশ যদি যথাযথ ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রতিরোধী পদক্ষেপ নিতে হবে। ইউএসটিআর মনে করে, ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের ধারা ৩০১-এর অধীনে শুরু করা তদন্তের ফলেই এই শুল্ক প্রস্তাব এসেছে।
এ সিদ্ধান্তটি এমন সময়ে এসেছে যখন ট্রাম্প প্রশাসন তার জরুরি শুল্ক কাঠামো পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ওই জরুরি ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে আরোপ করা কিছু শুল্ক বাতিল করায় প্রশাসন এখন নতুন আইনি ভিত্তি প্রস্তুত করছে—বিশ্লেষকদের ভাষ্য, নতুন কাঠামো কার্যকর হলে আদালতের আগের সীমাবদ্ধতা অতিক্রমের পথ খুলতে পারে।
আইনি প্রক্রিয়া ও জনমত গ্রহণের পর এই প্রস্তাব চূড়ান্ত হবে, তাই এখনই শুল্কের চূড়ান্ত প্রভাব সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তথাপি, প্রস্তাব কার্যকর হলে যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি খরচ বাড়তে পারে, এবং রপ্তানিকারকদের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে—বিশেষ করে যেসব দেশ বড় পরিসরে মার্কিন বাজারে পণ্য পাঠায় তাদের জন্য।
এখনকার দিকে নজর রাখার বিষয়: প্রস্তাবটি চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত প্রতিক্রিয়া, পাবলিক কমেন্ট এবং পর্য্যালোচনায় পরিবর্তন আনা সম্ভব। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য অংশীদারদের প্রতিক্রিয়া, দু’দেশীয় কূটনৈতিক চাপ ও আইনি লড়াই মিশিয়ে আগামী সময়ে বিষয়টি কী রূপ নেবে সেটাই নির্ধারণ করবে বাস্তব প্রভাব।













