২০২৬ বিশ্বকাপের শুরুতে আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি থাকলেও ভিসা সংক্রান্ত অনিশ্চয়তায় ভুগছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি নিষ্পত্তির প্রতিশ্রুতির মধ্যেও টিকিট কাটা পর্যন্ত পৌঁছানো জয়েনার সমস্যায় পরিণত হয়েছে। ইরান ফুটবল ফেডারেশনের সভাপতি মেহদি তাজ জানিয়েছেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী দল আগামী শনিবার স্পেনের পথে রওনা হবে এবং সেখান থেকে সরাসরি মেক্সিকোর তিজুয়ানায় পৌঁছাবে। তারা আশা করছেন, মেক্সিকোর ভিসা মঙ্গলবারের মধ্যে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা শুক্রবারের মধ্যে হাতে পাওয়া যাবে।
নিরাপত্তাজনিত কারণে প্রশিক্ষণকেন্দ্রেও ভিন্নতা আনা হয়েছে। আগের পরিকল্পনায় যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনার টাকসনেই ক্যাম্প করার কথা থাকলেও ফেডারেশনের অনুরোধ ও নিরাপত্তার বিবেচনায় সেই ঘাঁটি মেক্সিকোর তিজুয়ানায় সরানো হয়েছে। এই সিদ্ধান্তের ফলে মেক্সিকোর ভিসার প্রয়োজনীয়তা উত্থিত হলো, যা দলের জন্য নতুন প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বর্তমানে ইরান শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি নিচ্ছে তুরস্কের আনতালিয়ায়—সেখান থেকেই তারা উত্তর আমেরিকার উদ্দেশে রওনা দেবে।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে কিছু কূটনৈতিক ও নিরাপত্তাজনিত ঘটনার প্রেক্ষিতে ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। তবু ফিফা পুনরায় নিশ্চিত করেছে যে ইরান টুর্নামেন্টে অংশ নেবে। কিন্তু এপ্রিল মাসে নতুন অদ্ভুত মোড় নেয় বিষয়টি, যখন মেহদি তাজের কানাডায় প্রবেশভিসা বাতিলের খবর আসে। তার বিরুদ্ধে অতীতের প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সংযোগ থাকার অভিযোগ তোলা হয়—অভিযোগটি এমন এক সামরিক সংগঠনের সঙ্গে সম্পর্কের, যাকে উত্তর আমেরিকার বেশ কিছু দেশ সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে বিবেচনা করে।
মার্কো রুবিও, মার্কিন সিনেটর, ভিসা প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে কড়া বার্তা দিয়েছেন। একটি শুনানিতে তিনি বলেছেন যে, অ্যাথলেট বা খেলোয়াড়দের নিয়ে তাদের কোনো আপত্তি নেই, তবে প্রতিনিধি দলে এমন কাউকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে না যিনি ক্রীড়ার সঙ্গে যুক্ত নন এবং যাদের সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট নিরাপত্তা বা কূটনৈতিক উদ্বেগ রয়েছে। মার্কিন প্রশাসনও ইরানী প্রতিনিধি দলটির প্রতিটি সদস্যের ওপর কড়া নজরদারি চালাবে বলে জানিয়েছে, যাতে কোনো নিরাপত্তা বা কূটনৈতিক লঙ্ঘন ঘটতে না পারে।
মাঠে ইরানের সূচি কঠিন: ১৫ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার ইঙ্গলউডে প্রথম ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে নামবে তারা; এরপর ২১ জুন বেলজিয়ামের মুখোমুখি হওয়া এবং ২৬ জুন সিয়াটলে মিসরের বিরুদ্ধে খেলতে হবে। দেশটির ঘরোয়া পেশাদার ফুটবল লিগ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও যুদ্ধজনিত কারণে কার্যত স্থগিত থাকলেও খেলোয়াড়রা বিদেশে কঠোর অনুশীলন করে নিজেদের ফিটনেস বজায় রেখেছেন। এখন ভিসা পাওয়া এবং নিরাপদে ভেন্যুতে পৌঁছানো—এসবই নির্ধারণ করবে ইরানের এবারের বিশ্বকাপ গন্তব্য।














