ঢাকা | শনিবার | ৩০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

শহীদ জিয়ার পথই গণতন্ত্র ও উন্নয়নের রক্ষাকবচ: মির্জা ফখরুল

বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম শাহাদাতবার্ষিকীতে গভীর শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে বলেছেন, শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথই দেশের উন্নয়ন, সার্বভৌমত্ব ও বহুদলীয় গণতন্ত্র রক্ষার মূল ভিত্তি।

শুক্রবার (২৯ মে) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বাণীতে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতারকেন্দ্র থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা, মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর কমান্ডার ও জেড ফোর্সের অধিনায়ক হিসেবে জিয়াউর রহমান জাতির ইতিহাসে এক বীরনায়কের জায়গা অর্জন করেছেন। তার ঘোষণাই দেশের তরুণ-শ্রমিক-ছাত্রসহ মানুষকে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে উদ্বুদ্ধ করেছিল।’’

তিনি আরও বলেন, ‘‘বিজয়ের পর দেশের সামনের দিকে এগোনোর পথে বহু চ্যালেঞ্জ ছিল। তৎকালীন শাসকগোষ্ঠীর অগণতান্ত্রিক শাসন, সংবাদপত্র ও বাক-চিন্তার স্বাধীনতার উপর আক্রমণ দেশের মানুষের অধিকার ক্ষুণ্ণ করেছিল। সেই অকার্যকর পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে জিয়া বহুদলীয় গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও নাগরিক স্বাধীনতা ফিরিয়ে আনেন।’’

মির্জা ফখরুল জিয়ার নেতৃত্বে অর্থনৈতিক উদ্যোগের প্রশংসাও করেন। তিনি বলেন, ‘‘জিয়ার স্বেচ্ছাশ্রম ভিত্তিক উৎপাদননীতির ফলে দেশ ধাপে ধাপে খাদ্য আয়াত নির্ভরতা থেকে বেরিয়ে খাদ্য রপ্তানিকারক দেশে পরিণত হয়। তিনি দুর্নীতিবাজ ও সুবিধাবাদী প্রবণতার বিরুদ্ধে ছিলেন এবং ব্যক্তিজীবনে স্বচ্ছতাকে উচ্চ মানতেন।’’

বিএনপির মহাসচিব স্মরণ করান যে ১৯৮১ সালের ৩০ মে চট্টগ্রামের সার্কিট হাউসে ষড়যন্ত্রকৃত একটি চক্র রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে হত্যা করে। মির্জা ফখরুল অভিযোগ করেন, ওই চক্রান্তকারীরা কখনোই তার জনপ্রিয়তা স্বীকার করতে পারেনি, ফলে তাঁকে হত্যার মতো নির্মম পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়।

তিনি বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকাকেও তুলে ধরেন এবং বলেন, ‘‘শহীদ জিয়ার প্রদর্শিত পথে চলেই খালেদা জিয়া বহুদলীয় গণতন্ত্র ও দেশের উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিয়ে গিয়েছেন।’’

বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়েও কথা বলতে গিয়ে মির্জা ফখরুল আগের শাসনকালের সমালোচনা করেন। তাঁর ভাষায়, ‘‘আওয়ামী লীগের শাসনে দীর্ঘ সময়ে গুম, খুন, নির্যাতন ও অর্থপাচার ছড়িয়ে পড়ে এবং জনগণের অধিকার ক্ষুণ্ন হয়।’’ তিনি আরও বলেন, ‘‘এই পরিস্থিতিতে ছাত্র-শ্রমিক ও জনতাসহ গণতন্ত্রকামী জনগণ ঐক্যবদ্ধ হয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলে এবং ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ঘটনার মাধ্যমে তা প্রকাশ পায়।’’

ভবিষ্যত পরিকল্পনা ও জনস্বার্থ প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি জানিয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি সরকার গঠিত হলে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা ও নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করবে। আমরা গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যকারিতা পুনরুদ্ধার করতে চাই।’’

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি দলের নেতা-কর্মী এবং জনগণকে শহীদ জিয়ার শাহাদাতবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদায় পালনের আহ্বান জানান এবং বলেন, ‘‘জাতীয় স্বার্থ ও গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষায় শহীদ জিয়ার আদর্শকে বুকে ধারণ করে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এগোতে হবে।’’