ঢাকা | শনিবার | ৩০শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১৩ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

১৫ বছরে রেকর্ডবাহর ‘ইউনিভার্স বেবি বস’ বৈভব সূর্যবংশী

রাজস্থান রয়্যালসের মাত্র ১৫ বছর বয়সী বিস্ময়বালক বৈভব সূর্যবংশী আইপিএলের ইতিহাস নতুন করে লিখে দিয়েছেন। সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে এলিমিনেটর ম্যাচে ১২টি ছক্কা হাঁকিয়ে তিনি ক্রিস গেইলের ১৪ বছর পুরোনো কীর্তি ভেঙে দিয়েছেন—২০১২ সালে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর হয়ে গেইলের করা ৫৯টি ছক্কার রেকর্ড ছাপিয়ে বৈভব এখন ৬৫টি ছক্কায় পৌঁছেছেন। স্টেডিয়ামের জায়ান্ট স্ক্রিনে তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইউনিভার্স বেবি বস’ তকমা দেওয়া হয়, যা গেইলের ‘ইউনিভার্স বস’ উপাধির এক আধুনিক প্রতিধ্বনি।

ম্যাচে টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরু থেকেই বৈভব হায়দরাবাদের বোলিং লাইন-আপকে চাপে ঢুকিয়ে দেন। প্যাট কামিন্স ও সাকিব হোসেনের মতো বিশ্বসেরা বোলারদের ওপর আধিপত্য দেখিয়ে মাত্র ১৬ বলেই তিনি অর্ধশতক পূর্ণ করেন—আইপিএল প্লে-অফের ইতিহাসে যৌথভাবে দ্রুততম হাফ-সেঞ্চুরির রেকর্ড। আউট হওয়ার আগে মাত্র ২৯ বলে ৯৭ রানের এক বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন তিনি, যেখানে তার স্ট্রাইক রেট ছিল ৩৩৪.৪৮। মাত্র তিন রানের ব্যবধানে ২০১৩ সালে গেইলের করা ৩০ বলের দ্রুততম সেঞ্চুরির বিশ্বরেকর্ডটি ভাঙতে পারেননি, তবু তার সেই ধাঁচের ব্যাটিং গ্যালারিতে উন্মাদনা ছড়িয়ে দেয়।

ইনিংসের প্রথম ৬ ওভার—পাওয়ার প্লে—ছিল সত্যিই দর্শনীয়। এই সময়েই বৈভব একাই ৮টি ছক্কা মেরেছেন, যা আইপিএলের পাওয়ার প্লে-র ইতিহাসে কোনো ব্যাটারের সর্বোচ্চ ছক্কার নতুন রেকর্ড। ২০০৮ সালে লঙ্কান কিংবদন্তি সনাথ জয়াসুরিয়ার করা ৭টি ছক্কা পাঁচ বছর ধরে অক্ষত ছিল; এখন সেই রেকর্ডও ভেঙে গেছে। বৈভবের এই ঝড়ো শুরু রাজস্থানকে বড় সংগ্রহের ভিত্তি দিল এবং প্রতিপক্ষ বোলারদের মানসিকভাবে পিছনে সরিয়ে দিল।

আগে থেকেই বয়স মাত্র ১৫ বছর ৪৩ দিন—তবু বৈভব কেবল একটি ম্যাচের শোয়ে আটকে নেই। আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে দ্রুততম ব্যাটার হিসেবে মাত্র ৫১৫ বল খেলেই ১০০টি ছক্কার কীর্তি গড়েছেন তিনি। আইপিএলের মধ্যে ২০ বলের কম সময়ে পাঁচটি হাফ-সেঞ্চুরি করার তালিকায় তিনি এখন নিকোলাস পুরানের পাশে রয়েছেন; এর আগে এই কীর্তি সবচেয়ে বেশি ছয়বার করে নাম লেখিয়েছেন অভিষেক শর্মা। এই ধারাবাহিকতা প্রমাণ করে বৈভব কেবল এক ঝলকই নয়—দীর্ঘ মেয়াদে তিনি প্রতিযোগিতায় নিজেদের জায়গা করে নেবেন বলে আশার প্রশস্ততা আছে।

এই অতিমানবীয় পারফরম্যান্স আইপিএলসহ বিশ্ব ক্রিকেটে নতুন এক বিস্ময় সৃষ্টি করেছে। সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে তার অর্জনগুলো ক্রিকেট বিশেষজ্ঞদের প্রশংসা কুড়াচ্ছে এবং দর্শকদের মনে চিরকালীন ছাপ রেখে যাচ্ছে। রাজস্থান রয়্যালসের ‘ইউনিভার্স বেবি বস’ যেভাবে একের পর এক রেকর্ড নিজের নামে লেখাচ্ছেন, তাতে মনে হয় আগামী দিনগুলোতে তিনি আরও বড় মাইলফলক স্পর্শ করবেন—আর আইপিএলের রোমাঞ্চকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।