ঢাকা | মঙ্গলবার | ২৬শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৯ই জিলহজ, ১৪৪৭ হিজরি

নেতানিয়াহু সামরিক কঠোরতা বাড়ানোর ঘোষণা, লেবাননে ব্যাপক ইসরায়েলি বিমান হামলা

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান তীব্র করার ঘোষণা দেওয়ার পরই লেবাননের নানা অঞ্চলে নতুন করে ব্যাপক বিমান হামলা শুরু করেছে ইসরায়েলি বাহিনী। আইডিএফ জানিয়েছে, বিশেষ করে পূর্ব লেবাননের কৌশলগত বেকা উপত্যকা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে জোরালো হামলা চালানো হয়েছে।

নেতানিয়াহু সোমবার রাতে একটি ভিডিও বার্তায় বলেছিলেন, ইসরায়েল এখন হিজবুল্লাহর সঙ্গে বড় ধরনের সংঘাতে জড়িত এবং সামরিক বাহিনীকে শত্রুর সক্ষমতা দুর্বল করতে তৎপর থাকতে বলা হয়েছে। তিনি দাবি করেছেন, পূর্বে চালানো অভিযানে ৬০০টিরও বেশি লক্ষ্যবস্তু বা প্রতিরোধক সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। আইডিএফ বলেছে, বেকা উপত্যকার কিছু অঞ্চলে ড্রোন ও রকেট হামলার সূত্র রয়েছে, যেগুলো প্রতিহত করতেই এই নতুন অভিযান শুরু করা হয়েছে।

এই পদক্ষেপকে মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা বাড়ানোর সম্ভাব্য কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। চলতি মাসের শুরুতে দুই পক্ষ ৪৫ দিনের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়াতে সম্মত হলেও তা কার্যত বজায় থাকছে না — গত ১৬ এপ্রিলের পর ইসরায়েলের অভিযান মূলত দক্ষিণ লেবাননের সীমান্তে সীমাবদ্ধ ছিল; তবে সাম্প্রতিক হামলার পর পরিস্থিতির পরিধি বেড়েছে এবং সংঘাতের বিস্তারের আশঙ্কা বাড়ছে।

দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে এ পর্যন্ত লেবাননে প্রায় ৩ হাজারেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। একই সাথে সাম্প্রতিক ইসরায়েলি অভিযানে আরও চার শতাধিক ব্যক্তি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যাদের মধ্যে জরুরি সেবা কর্মীরাও রয়েছেন। পক্ষান্তরে, প্রাথমিক যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে আইস্রায়েলি সরকারি সূত্রে জানানো হয়েছে যে প্রায় ১০ জন ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। সারা দক্ষিণ লেবানন জুড়ে অনবরত সরে যাওয়ার নির্দেশে প্রায় ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে আঞ্চলিক শান্তি রক্ষার দাবি জানিয়েছে ইরান, যা সব পক্ষকে পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি বজায় রাখতে আহ্বান করেছে। তবে ইসরায়েল হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে অভিযান বন্ধে অনড়। লেবাননের সরকারও আদালত ও প্রশাসনিক উদ্যোগ নিয়ে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করছে।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, এই জটিল রাজনৈতিক ও সামরিক সংকট সমাধানের জন্য একটি দীর্ঘমেয়াদী ও কার্যকর যুদ্ধবিরতি অপরিহার্য। না হলে বর্তমানে যে সংঘাতের ধারা দেখা যাচ্ছে, তাতে পুরো অঞ্চল জুড়ে আরো বিস্তৃত রকমের সংঘাতে পরিণত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।