বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ থমাস ডুলির অধীনে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। সোমবার বিকেলে কিংস অ্যরেনায় প্রথমবার কোচ হিসেবে মাঠে সময় কাটান এই আমেরিকান কোচ। বসুন্ধরা কিংসের ১০ জন ফুটবলার ক্লাবের ব্যস্ততার কারণে এখনো ক্যাম্পে যোগ দিতে না পারায় ডুলি প্রথম সেশনে ১৬ জন খেলোয়াড়কে নিয়েই অনুশীলন পরিচালনা করেন।
মাঠে অনুশীলন শুরু হওয়া আগে ডুলি শিষ্যদের সামনে নিজের মৌলিক কৌশল ও কোচিং দর্শন উপস্থাপন করেন। বিশেষ করে তিনি স্পষ্ট ও স্বচ্ছ যোগাযোগের ওপর জোর দিয়েছেন — কোনো নির্দেশনা না বুঝলে সরাসরি প্রশ্ন করার অনুরোধ করেছেন যাতে ভুল বোঝাবুঝি মাঠে নেতিবাচক প্রভাব না ফেলে। নিজের কোচিং জীবনের উদাহরণ দিয়ে ডুলি বলেছিলেন যে বাইরে একটি ঘটনার কারণে তিনি যোগাযোগের গুরুত্ব আরো বেশি উপলব্ধি করেছেন, যেখানে একজন খেলোয়াড় বুঝেছি বলে দাবি করলেও তা মাঠে দেখা যায়নি।
প্রশিক্ষণে কৌশলগত কাজের সঙ্গে সঙ্গে মনোযোগ ও দক্ষতা বৃদ্ধির দিকেও তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন। সাধারণ পাসিং ড্রিলের বদলে ৫ বনাম ২ পজিশনাল গেম অনুশীলনের মাধ্যমে চাপ, অবস্থান বুঝা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের গতি বাড়ানোর চেষ্টা করা হয়েছে। ডুলির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী বাংলাদেশের ফুটবলারদের ফিটনেস বা স্ট্যামিনা আন্তর্জাতিক মানের কাছাকাছি হলেও ম্যাচে ছোটখাটো মানসিক ভুল ও চাপের মুহূর্তগুলো তাদের কাঙ্ক্ষিত ফল আনার পথে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। সেই দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে সেগুলো শোধরানোর ওপর কাজ করার ফোকাস তিনি রাখবেন।
প্রথম দিনের অনুশীলন মূলত পরিচিতি ও প্রাথমিক নির্দেশনার মাধ্যমে শেষ হয়েছে। টিম ম্যানেজমেন্ট বলেছে, বসুন্ধরা কিংসের খেলোয়াড়রা কবে পুরো দলে যোগ দেবেন তা এখনও নিশ্চিত নয়। দল পূর্ণাঙ্গ হলে ডুলি তার দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা এবং বিস্তারিত গেমপ্ল্যান বাস্তবায়নে আরো গভীরে কাজ শুরু করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। আগামীকাল দলের দ্বিতীয় সেশন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, সেখানে দলের পূর্ণ সদস্যরা উপস্থিত থাকলে অনুশীলন তৎপরতা বাড়বে।














