ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)’র সভাপতি তাসকীন আহমেদ দেশের ডেইরি ও খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে নিউজিল্যান্ডের বিনিয়োগ আকর্ষণের আবেদন জানিয়েছেন। বুধবার (২০ মে) রাজধানীর ডিসিসিআই গুলশান সেন্টারে তাঁরা নিউজিল্যান্ডের শ্রীলঙ্কায় নিযুক্ত অনাবাসিক হাইকমিশনার ডেভিড পাইনের সঙ্গে বৈঠকে এই আহ্বান জানান।
বৈঠকে ডেভিড পাইন আশ্বাস দেন যে, স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের পরও নিউজিল্যান্ড বাংলাদেশী পণ্যের প্রতি শুল্কমুক্ত ও অগ্রাধিকারমূলক বাজার সুবিধা বজায় রাখার বিষয়ে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে। তিনি বলেন, এলডিসি-পরবর্তী সময়ে বাজারে প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করার বিষয়টি নিউজিল্যান্ড গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে, যা বাংলাদেশের জন্য ইতিবাচক সংকেত।
তাসকীন আহমেদ বৈঠকে বলেন, নিউজিল্যান্ড বিশ্বস্ত মানদণ্ডে ডেইরি ও খাদ্য নিরাপত্তায় শীর্ষে রয়েছে এবং তাদের কারিগরি অভিজ্ঞতা বাংলাদেশে কাজে লাগালে দেশটির দুগ্ধ প্রক্রিয়াজাতকরণ, প্রাণি খাদ্য উৎপাদন, ডেইরি খামারের আধুনিকায়ন, গবাদিপশুর উন্নত জাত উন্নয়ন, মৎস্যচাষ ও ভেটেরিনারি প্রশিক্ষণসহ প্রযুক্তিগত সহায়তায় বড় অগ্রগতি সম্ভব। তিনি জলবায়ু ব্যবস্থাপনা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতেও নিউজিল্যান্ডের বেসরকারি বিনিয়োগের অনুরোধ জানান—এককভাবে বা যৌথভাবে বিনিয়োগ করতে আগ্রহী হতে বলা হয়।
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য তথ্য অনুযায়ী ২০২৫ অর্থবছরে দুই দেশের বাণিজ্যের পরিমাণ প্রায় ৪৯৭.৪৩ মিলিয়ন মার্কিন ডলার ছিল। তাসকীন আহমেদ নিউজিল্যান্ডের ব্যবসায়ীদের কাছে আরও বেশি পরিমাণে বাংলাদেশি তৈরি পোশাক, চামড়াজাত পণ্য ও তথ্য-প্রযুক্তি সেবা আমদানি করতে আহ্বান জানান এবং বলেন, এসব পণ্য নিউজিল্যান্ডের গ্রাহকদের কাছে জনপ্রিয় হওয়ার সক্ষমতা রাখে।
হাইকমিশনার ডেভিড পাইন বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি প্রশংসা করে বলেন, দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা নিয়ে উভয় দেশের সরকারের যৌথ প্রচেষ্টা দরকার। তিনি আরও বলেন, শুধু রপ্তানি না—আমদানি বৈচিত্র্যকর করাও গুরুত্বপূর্ণ। নিউজিল্যান্ডের খাদ্যপণ্য উচ্চমানের ও জিএমও-মুক্ত হওয়ার কারণে তারা বাংলাদেশে স্থিতিশীল ও দীর্ঘমেয়াদী বাণিজ্যিক অবকাঠামো গড়ে তোলায় আগ্রহী।
উচ্চপর্যায়ের এই বৈঠকে ডিসিসিআই-এর ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি রাজিব এইচ চৌধুরী ও সহ-সভাপতি মো. সালিম সোলায়মান উপস্থিত ছিলেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নিউজিল্যান্ডের এই প্রতিশ্রুতি ও সম্ভাব্য সহযোগিতা বাংলাদেশের রপ্তানি খাতকে দীর্ঘমেয়াদে আরও নিরাপদ ও প্রতিযোগিতামূলক করতে সহায়ক হবে।














