ঢাকা | রবিবার | ১৭ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ৩০শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

বাকৃবিতে পরপর দুই আবাসিক হলে চুরি, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা

বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) ভেতরে গত দুই রাতে দুটি আবাসিক হলে পৃথক চুরির ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার পর হলবন্দি শিক্ষার্থীদের মধ্যে উদ্বেগ ও নিরাপত্তাহীনতা বৃদ্ধি পেয়েছে। ঘটনার দুটি কাণ্ড ঘটে কৃষিকন্যা হল ও হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে—একটিতে সিলিং কেটে, আর একটিতে জানালার শিক কেটে কক্ষে প্রবেশ করে চুরি করা হয়েছে।

শুক্রবার (১৫ মে) রাতে কৃষিকন্যা হলের খ ব্লকের ১৩ নম্বর কক্ষে সিলিং ভেঙে কক্ষে ঢুকে চোরেরা নগদ প্রায় ৪ হাজার টাকা, আইডি কার্ডসহ দুটি ব্যাগ ছিনিয়ে নেয় বলে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন। একইসঙ্গে শনিবার (১৬ মে) রাতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলের ডি ব্লকের চার তলার ৪৪১ ও ৪৪০ নম্বর কক্ষে হামলা হয়। এখানে জানালার দুটি স্টিলের শিক কেটে চোররা কক্ষে ঢুকতে পারেন এবং মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ ও নগদ টাকা নিয়ে চলে যান।

ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী জানালেন, রিডিং রুম থেকে ফিরে দরজা ভিতর থেকে আটকে থাকা দেখতে পেয়ে জানালা দিয়ে চোরটিকে দেখতে পান; চিৎকার করলে চোর দ্রুত সিলিংয়ের পথ ধরে পালিয়ে যায়। ঘটনার পর হলের নারীদের মধ্যে চরম নিরাপত্তাহীনতার অনুভূতি তৈরি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থী দাবি করেছেন, ঈদের ছুটির কারণে অনেক কক্ষ ফাঁকা থাকায় চোরেরা সুযোগ নিলো।

শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের প্রতি প্রশ্ন তুলেছেন—কিভাবে চারতলায় উঠে সীমান্তের মধ্যে থেকেই জানালার শিক কেটে কক্ষে প্রবেশ möglich হলো, যখন চারপাশে বাউন্ডারি ওয়াল আছে। তারা বলেন, একের পর এক চুরির ফলে আবাসিক হলগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে পড়েছে।

অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের দাবি, হলের গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় উচ্চ রেজুলেশনের সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন, নিরাপত্তা কর্মীদের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করা ও হল এলাকায় নিয়মিত নজরদারি বাড়াতে হবে।

হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী হলে পড়ুয়া মেজবাউল হক মিজু ক্ষোভ ব্যক্ত করে বলেন, “যেখানে চারতলার মতো জায়গায় উঠে জানালার শিক কেটে চুরি করা সম্ভব হয়, সেখানে হলের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর বলে বিশ্বাস করা যায় না।” তিনি প্রশাসন ও প্রভোস্টদের দ্রুত পদক্ষেপের অনুরোধও জানান।

কৃষিকন্যা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. আনিসুজ্জামান বলেন, হলের নির্মাণকাজ চলমান রয়েছে এবং সেখানে প্রয়োজনের তুলনায় কর্মীর সংখ্যা কম। তিনি বলেন, ঘটনাটি অনাকাঙ্ক্ষিত; এটি হয় পরিকল্পিত কাণ্ড, নয়তো নেশাগ্রস্ত কেউ সুযোগ নিয়ে এই কাজ করেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সোহরাওয়ার্দী হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. মো. বজলুর রহমান মোল্লা জানান, ঘটনার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য ইতোমধ্যেই একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। প্রাথমিক তথ্যে দেখা গেছে—শিক্ষার্থীরা কক্ষে থাকা অবস্থায় জানালা কাটায় চুরি ঘটেছে; নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা কর্মীদের কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা গুরুত্ব নিয়ে তদন্ত করা হবে। ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ পেলে আনুষ্ঠানিকভাবে নিরাপত্তা শাখাকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে, তিনি যোগ করেন।

বাকৃবির নিরাপত্তা কাউন্সিলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আরিফুল ইসলাম জানান, যদিও হলগুলোর নিজস্ব নিরাপত্তা ব্যবস্থা আছে, তবুও সার্বিক নজরদারির জন্য সেন্ট্রাল সিকিউরিটি সেকশন তৎপর রয়েছে। কৃষিকন্যা হলে চুরির পর চিফ সিকিউরিটি অফিসার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে একটি সম্ভাব্য প্রতিবেদন তৈরি করেছেন এবং কারণগুলো চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। তিনি বলছেন, বিশাল ক্যাম্পাসে জনবল সংকট একটি বড় সমস্যা, যে সুযোগে চোরেরা অন্ধকার বা আড়ালে থাকা সীমানা টার্গেট করছে।

ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. কাজী ফরহাদ কাদির বলেন, হলগুলোর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তার দায়িত্ব মূলত প্রভোস্টদের। সিসিটিভি কভারেজ ও অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তায় ঘাটতি থাকলে তা প্রভোস্টদের কর্তৃপক্ষের আওতায়; তবু প্রভোস্ট, ডীন, প্রক্টোরিয়াল বডি ও সিকিউরিটি সেকশনের মধ্যে সমন্বয় করে নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে।

শিক্ষার্থীরাও বলছে—উচ্চ রেজুলেশনের সিসিটিভি স্থাপন, নিরাপত্তাকর্মীদের কার্যকর পর্যবেক্ষণ ও তড়িৎ ভিত্তিতে গস্থা নেওয়াই তাদের চাওয়া। প্রশাসন তদন্ত শেষ করে এবং নিরাপত্তা জোরদার করলে হলে অনুশাসন ফেরানো সম্ভব হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেছেন।