ঢাকা | সোমবার | ১১ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ২৪শে জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

তাড়াশে কাদাকাটা সড়ক: শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষের দৈনন্দিন দুর্ভোগ

সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলার মান্নাননগর-রানীরহাট আঞ্চলিক সড়কের ঘরগ্রাম ওবদা-বাঁধ থেকে ঘরগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অংশ পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার কাঁচা রাস্তা দীর্ঘদিন ধরে পাকাকরণ হয়নি। বর্ষা শুরু হলেই কঠিন কাদামাটিতে এই পথ ব্যবহারে শিক্ষার্থীসহ হাজারো মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাতে বাধ্য হচ্ছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, রাস্তাটির অবস্থা এতই খারাপ যে বাহির থেকে দেখলে এটা যেন চাষের জমির মতো লাগেই। বৃষ্টি হলেই পথ হাঁটুসমান কাদা ও পানিতে ঢেকে যায়। সকালে স্কুলগমনকারী শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধ, প্রসূতি নারী, অসুস্থ রোগী ও মসজিদগামী মুসল্লিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন।

ঘরগ্রাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাজু, রিয়া ও আবদুল্লাহ জানান, বৃষ্টির পর পদে পদে পানি জমে থাকায় স্কুলে আসতে সমস্যা হয়। “হাঁটুসমান পানি হলে জামা-খাতা নষ্ট হয়, অনেক সময় বইগুলো হেটে না গিয়ে ভিজে যায়, কেউ কেউ স্কুলই এড়িয়ে বাড়ি ফিরে যায়”, তারা বলেন। সম্প্রতি এক শিশুর সাইকেল থেকে পড়ে আহত হওয়ার ঘটনা ঘটার কথাও তারা জানান।

স্থানীয় বাসিন্দা শাহিন সরদার বলেন, “প্রতিদিনই এই রাস্তা দিয়ে যেতে গেলে বাড়তি সময় ও কষ্ট পুষে নিতে হয়। বিশেষ করে ছোটদের ক্ষেত্রে ঝুঁকি অনেক। দ্রুত রাস্তা পাকাকরণের উদ্যোগ না নিলে সমস্যার সমাধান হবে না।”

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. জাহাঙ্গীর আলম জানান, বৃষ্টির দিনগুলোতে অনেক শিক্ষার্থী স্কুলে উপস্থিত হতে পারে না। বিষয়টি ইউনিয়ন পরিষদকে জানানো হলেও এখনও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি বলে তিনি যুক্তি দেন।

মাগুড়া বিনোদ ইউনিয়ন পরিষদ-এর চেয়ারম্যান মো. মেহেদী হাসান ম্যাগনেট বলেন, “ইউনিয়নের অধিকাংশ রাস্তা ইতোমধ্যে উন্নয়ন করা হয়েছে। এ রাস্তাটিও দ্রুত পাকা করার উদ্যোগ নেয়া হবে।”

তাড়াশ উপজেলা প্রকৌশল অফিসের প্রকৌশলী মো. ফজলুল হক জানান, “রাস্তাটির এই বেহাল অবস্থার কথা তাদের জানা ছিল না। চেয়ারম্যানের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

স্থানীয়রা দ্রুত স্থায়ী সমাধি—পাকা করণ ও নিকাশি ব্যবস্থা—চাচ্ছেন, যাতে বৃষ্টিতে সড়ক বন্ধ হয়ে যায় না এবং শিশু ও বিধবা, অসুস্থদের চলাচলে ঝুঁকি কমে। বর্তমানে তারা এমনি উক্ত প্রতিশ্রুতির প্রতীক্ষায় রয়েছে এবং দ্রুত কাজ শুরু করার দাবী করছেন।