ঢাকা | বুধবার | ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১২ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

রাজস্থানের নাটকীয় জয়, ২০০+ রানে সর্বোচ্চ হার পাঞ্জাবের

নিউ চণ্ডীগড়ে আইপিএল ২০২৬-এর এক নাটকীয় লড়াইয়ে ২২২ রানের বিশাল সংগ্রহ করেও পাঞ্জাব কিংস শেষ রক্ষা করতে পারেনি; সঞ্জু স্যামসনের রাজস্থান রয়্যালস ৪ বল বাকি থাকতে ৬ উইকেটে জয় তুলে নিয়ে মাঠ ছাড়ে। এই ম্যাচে পাঞ্জাবের উপর এক অদ্ভুত রেকর্ড গড়া হয়েছে — আইপিএলে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ ৮ বার দুইশ বা তার বেশি রান করেও পরাজিত হলো পাঞ্জাব, যা বেঙ্গালুরু ও চেন্নাইয়ের অনুরূপ রেকর্ডকে অতিক্রম করলো।

পাঞ্জাব প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে আক্রমণাত্মক শুরু করেছিল। ওপেনার প্রিয়াংশ আর্য ১১ বলে ঝটিত ২৯ রান করলেও অপর প্রান্তে প্রভসিমরান সিং ঠাণ্ডা মাথায় ৫৯ রানের বেধেঁ রাখা ইনিংস খেলেন। ইনিংসের চূড়ায় আসলেন অজি অলরাউন্ডার মার্কাস স্টয়নিস। মাত্র ২২ বল খেলে তিনি ৪ চার ও ৬টি ছক্কায় ৬২ রানের বিধ্বংসী এক ইনিংস খেলেন এবং শেষ ৩ ওভারে ৫৫ রানের ঝড় তুলতে পৌঁছান—পাঞ্জাবকে ২২২ রানের সম্ভাব্য সংগ্রহ এনে দিলেন। রাজস্থানের পক্ষে যশ রাজ পুঞ্জ সর্বোচ্চ ২টি উইকেট নেন।

টার্গেট ২২৩ তাড়া করতে নেমে রাজস্থানও মৃদু চাপ মোকাবেলায় দ্রুত দুই ওপেনারের জুটিতে ভাল শুরু পায়। যশস্বী জয়সওয়াল ও বৈভব সূর্যবংশী প্রাণবন্ত সমন্বয় দেখান; বৈভব মাত্র ১৬ বলেই ৪৩ রানের ঝড়ো ইনিংস খেলেন এবং টুর্নামেন্টের শীর্ষ রান সংগ্রাহকের তালিকায় নিজের অবস্থান আরও দৃঢ় করেন। জয়সওয়াল ২৭ বলে ৫১ করে দলের ভিত্তি গড়ে তোলেন।

মধ্যরাতে পাঞ্জাবের হয়ে অভিজ্ঞ স্পিনার যুজভেন্দ্র চাহাল তিনটি উইকেট নিলেও রাজস্থানের মিডল অর্ডার এবং ডেথ ব্যাটিংয়ের সমন্বয় পাঞ্জাব বোলিংকে চাপে ফেলেছিল। ম্যাচের শেষ অংশে দোনোভান পেরেইরা ও শুভম দুবের ধাক্কাই জয় নিশ্চিত করে—পেরেইরা ২৬ বলে অনবদ্য ৫২ রান করেন, আর দুবে মাত্র ১২ বল খেলে ৩১ রানের ঝোড়ো ইনিংস উপহার দেন। এভাবেই রাজস্থান ৪ বল হাতে রেখে ছড়িয়ে ফেলল জয়ের হাসি।

এই জয়ের ফলে রাজস্থান রয়্যালস ৯ ম্যাচে ১২ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট টেবিলের তৃতীয় স্থানে উঠে এসেছে। অন্যদিকে পাঞ্জাব কিংসের জন্য এটি চলতি আসরে আট ম্যাচের মধ্যে প্রথম হারের সাক্ষী; তবু ১৩ পয়েন্ট নিয়ে তারা এখনো শীর্ষে রয়েছে। রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স বেঙ্গালুরু ১২ পয়েন্ট নিয়ে বর্তমানে দ্বিতীয় স্থানে।

এক ম্যাচেই রেকর্ড, নাটক ও রোমাঞ্চের মিশেলে দেখা গেছে আইপিএলের উন্মাদনা—২০০ রানের ওপর একটি বড় সংগ্রহও প্রয়োজনে স্বয়ংক্রিয় জয় নিশ্চিত করে না।