ঢাকা | মঙ্গলবার | ২৮শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৫ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ | ১১ই জিলকদ, ১৪৪৭ হিজরি

সাতকানিয়ায় মুখোশধারীদের সশস্ত্র হামলায় মুহাম্মদ শাহাদাত (৩০) নিহত

দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়ায় গত রোববার (২৬ এপ্রিল) রাত প্রায় ১১টার দিকে মুখোশধারীদের সশস্ত্র হামলায় মুহাম্মদ শাহাদাত (৩০) নামে এক যুবক মারা গেছেন। স্থানীয়রা আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে নিকটস্থ হাসপাতালে নেওয়ার পর পরবর্তী চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (সিএমসিএইচ) পাঠানো হয়। সোমবার ভোরের দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি প্রাণ হারান।

নিহত শাহাদাত সাতকানিয়া উপজেলার উত্তর ঢেমশা ইউনিয়নের মাইজপাড়া ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এবং মৃত মোহাম্মদ শফিকুর রহমানের ছেলে।

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে সাতকানিয়া রাস্তার মাথা এলাকায়, সাতকানিয়া মডেল মসজিদের সামনে থাকা একটি চায়ের দোকানে। শাহাদাত সেখানে বসে ছিলেন। হঠাৎ করে দুই থেকে চারটি মোটরসাইকেল এবং একটি সিএনজি অটোরিকশা যোগে করে ১০ থেকে ১৫ জন মুখোশধারী সন্ত্রাসী সেখানে এসে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে তার ওপর অতর্কিতভাবে হামলা চালায়।

প্রত্যক্ষদর্শীরা বলেন, স্থানীয় কয়েকজন এগিয়ে গিয়ে সন্ত্রাসীদের ধরার চেষ্টা করলে তারা হতাশ্রয়ী হয় এবং অস্ত্র উঁচিয়েই সাধারণ মানুষকে ভয়ভীত করে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা শাহাদাতকে উদ্ধার করে প্রথমে নিকটস্থ হাসপাতালে নেন; পরে তাকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়। সেখান থেকেই পরে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নেওয়া হলে সোমবার ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

নিহতের বড় ভাই মোবারক হোসেন বলেন, “আমার ছোট ভাই রাস্তার মাথার সেই চায়ের দোকানে বসেছিল। হঠাৎ একদল সন্ত্রাসী অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে এসে তাকে নির্মমভাবে প্রহারে অভিযুক্ত করে। আমরা দ্রুত তাদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।”

সাতকানিয়া থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হক জানান, এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশ মাঠে কাজ শুরু করেছে। তিনি বলেন, ঘটনার বিষয়ে এখনও কোন লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি, তবুও আমরা তথ্য-প্রমাণ ও সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে অভিযুক্তদের ধরতে তৎপর আছি এবং দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেব।

স্থানীয়রা উদ্বেগ ও ক্ষোভ প্রকাশ করছে এবং দ্রুত তদন্ত ও দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তার চাচ্ছে। পুলিশ প্রাথমিক অনুসন্ধান চালাচ্ছে; তদন্তের পর বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।