ঢাকা | মঙ্গলবার | ১৪ই এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১লা বৈশাখ, ১৪৩২ বঙ্গাব্দ | ২৬শে শাওয়াল, ১৪৪৭ হিজরি

আলকারাজকে হারিয়ে মন্টে কার্লো চ্যাম্পিয়ন ইয়ানিক সিনার, ফের পেলেন এটিপি নং-১

বিশ্ব টেনিসের দুই প্রতিদ্বন্দ্বী মহাতারার লড়াইতে শেষ পর্যন্ত মাথা উঁচু করলেন ইতালীয় সেনসেশন ইয়ানিক সিনার। মন্টে কার্লো মাস্টার্সের নাটকীয় ফাইনালে গত রাতে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ও বিশ্বের এক নম্বর কার্লোস আলকারাজকে সরাসরি সেটে পরাজিত করে শিরোপা জিতেছেন ২৪ বছর বয়সী এই তারকা। ম্যাচের সেটগুলোর স্কোর ছিল ৭-৬ (৭-৫), ৬-৩।

প্রবল বাতাসে খেলার শুরুর কিছু সময় দুজনেই ছন্দ হারালেও ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণ সামলান সিনার। প্রথম সেটে লড়াই ছিল কণ্ঠস্বরহীন—উভয়ই একে অপরকে টক্কর দিলেও টান-টান টাইব্রেকে নিজের মুন্সিয়ানা দেখিয়ে ৭-৬ (৭-৫) সেটটি নিজের নামে করেন সিনার। দ্বিতীয় সেটে আলকারাজ সাময়িকভাবে ৩-১ এগিয়ে গিয়ে প্রত্যাবর্তনের আভাস দিলেও সিনারের অবিচল মনোযোগ ও আক্রমণাত্মক খেলা শেষ পর্যন্ত আলকারাজকে সেভাবে ধরা দিল না এবং ৬-৩ সেট জিতে ম্যাচ ও ট্রফি নিশ্চিত করলেন তিনি।

এই অভাবনীয় জয়ের ফলে গত বছরের নভেম্বরের পর প্রথমবার আবারও এটিপি র‍্যাংকিংয়ের শীর্ষপদ দখলে আনলেন সিনার। চলতি ২০২৬ সালে এটি তাঁর তৃতীয় মাস্টার্স ১০০০ শিরোপা—ইন্ডিয়ান ওয়েলস ও মিয়ামির পরে মন্টে কার্লো জয় যোগ হলো তাঁর সংগ্রহে। সূত্রেই বলা হচ্ছে, মাস্টার্স ইভেন্টগুলোতে এটি তাঁর টানা ২২তম জয়, যা বর্তমান টেনিস বিশ্বে তাঁর একক প্রভাবেরই প্রমাণ।

ট্রফি জয়ের পর আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় সিনার বলেন, ক্লে কোর্টে মানিয়ে নেওয়া তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ ছিল, কিন্তু সকল বাধা পেরিয়ে আবারও শীর্ষে উঠে আসা ও বড় টুর্নামেন্টে জয় পাওয়া তাঁর ক্যারিয়ারের জন্য বিশেষ মুহূর্ত। এই জয়ের মাধ্যমে আলকারাজের সঙ্গে ব্যক্তিগত লড়াই-পরিসংখ্যানেও তিনি প্রভাব বিস্তার করেছেন।

একই দিনে নারী সার্কিটেও দারুণ সূচনা—অস্ট্রিয়ার লিঞ্জ ওপেনের ফাইনালে ১৮ বছর বয়সী রুশ বিস্ময় কন্যা মিরা আন্দ্রেভা ফেভারিট আনাস্তাসিয়া পোতাপোভাকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছেন। প্রথম সেটে ১-৬ হেরে যাওয়ার পরও হাল ছাড়েননি তিনি; পরের দুই সেট জিতে (৬-৪, ৬-৩) সম্মানীয় ট্রফি নিজেদের করে নেন। এটি তাঁর ক্যারিয়ারের পঞ্চম ডব্লিউটিএ শিরোপা এবং বিশ্ব টেনিসে তার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত বহন করে।

সার্বিকভাবে রবিবারটি টেনিস বিশ্বে ছিল উত্তেজনায় ভরা—চীরপ্রতিদ্বন্দ্বীরা লড়াই করেছেন, নতুন প্রতিভারা আত্মপ্রকাশ করেছে, আর ইতিহাসের পাতায় নতুন উৎকণ্ঠা যোগ হয়েছে।